ডা. সাবরিনা চৌধুরী। পেশায় একজন চিকিৎক। তার সবশেষ কর্মস্থল ছিলো রাজধানীর
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট। এছাড়াও টেলিভিশনে স্বাস্থ্য বিষয়ক টকশো করেও পরিচিতি পান।
কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে করোনাকালের শুরুতে ডা.সাবরিনা আলোচনায় চলে আসেন।

বেরিয়ে আসে আরিফ-সাবরিনা দম্পতির নানা গল্প। দু’জনের বিয়ে হলেও;
কারোরই প্রথম সংসার নয় এটি। আরিফের চতুর্থ স্ত্রী সাবরিনা। আর সাবরিনারও মিলছে একাধিক
সংসারের খবর। যার প্রতিটি, তার সাফল্যের সিড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার মাধ্যম।
ডা. সাবরিনা নিজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিতই দিতেন আকর্ষণীয় আর মডেলিংয়ের নানা ছবি-ভিডিও। স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জেকেজি গ্রুপের চেয়ারম্যান পদেও থাকতে হতো ব্যস্ত। ফাঁকে, জাতীয় হৃৎরোগ ইন্সটিটিউটের ডাক্তারির দায়িত্বও পালন করতেন তিনি।
আরিফ চৌধুরীর চতুর্থ স্ত্রী সাবরিনা। তার দুই স্ত্রী থাকেন রাশিয়া ও লন্ডনে। আর আরেকজনের সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। সাবরিনা-আরিফ দম্পতি নিয়েও অনেক খবর বেরিয়ে আসতে শুরু করে। জানা যায়, তাদের সংসারও মসৃণ ছিলো না।


জেকেজি হেলথ কেয়ার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা ২৭ হাজার
করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে কোনো রকম পরীক্ষা ছাড়াই ১৫ হাজার ৪৬০টি মনগড়া ভুয়া রিপোর্ট
দেয়া হয়েছে। বাকি ১১ হাজার ৫৪০টি রিপোর্ট দিয়েছে আইইডিসিআরের মাধ্যমে।

মূলত সাবরিনার হাত ধরেই করোনার নমুনা সংগ্রহের কাজটি ভাগিয়ে নেয় অনেকটা
অখ্যাত জেকেজি নামে এই প্রতিষ্ঠান। জালিয়াতির কাজে সংশ্লিষ্টতা মিলেছে ডা. সাবরিনা
চৌধুরীর। জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের রেজিষ্টার সার্জন হয়েও তিনি একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের
চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সাবরিনা-আরিফ দম্পতি জালিয়াতির কারবার সম্পর্কে কেউই কোনোদিন জানতে
পারতো না। তবে তিতুমীর কলেজে করোনার বুথ স্থাপন করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, গান বাজনা, পার্টি
ও কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি ও শিক্ষার্থীদের পর সাংবাদিকদের ওপর মারধরের ঘটনা
তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ তাদের জালিয়াতির বিষয়টি ধরতে পারে।


পরে তাদের গুলশানের একটি ভবনের ১৫ তলার অফিসের একটি ল্যাপটপ থেকে ভুয়া
সনদ দিত। ওই ল্যাপটপ থেকে জেকেজির কর্মীরা রাতদিন শুধু জাল রিপোর্ট তৈরির কাজ করতো।
প্রতিটা সনদের জন্য নেয়া হতো পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিদেশিদের কাছ থেকে নেয়া হতো
১০০ ডলার। যদিও শর্ত ছিল বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহ করে সরকার নির্ধারিত ল্যাবে পাঠাতে
হবে। কিন্তু তারা সব প্রকার শর্তভঙ্গ করে পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট দিতো।
