করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার মামলায় জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান চিকিৎসক সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ও তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীসহ আটজনকে ১১ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক তোফাজ্জল হোসেন এই রায় দেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, করোনার ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে তারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলেছে।
করোনা পরীক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে ডাক্তার সাবরিনাসহ আট অভিযুক্তকে মঙ্গলবার সকালে আদালতে হাজির করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
বেলা পৌনে একটার দিকে রায় ঘোষণা করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তোফাজ্জল হোসেন।

রায়ে ডা. সাবরিনা ও তার স্বামী জেকেজির প্রধান নির্বাহী আরিফ, জেকেজির সমন্বয়ক সাঈদ চৌধুরী, সাবেক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী তানজিনা পাটোয়ারী, বিপ্লব দাস, শফিকুল ইসলাম ও জেবুন্নেসাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
এর মধ্যে করোনা সনদ নিয়ে জালিয়াতির দায়ে দুটি ধারায় চার বছর ও প্রতারণার ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তিন ধারার শাস্তি একের পর এক চলবে বলে বিচারক তোফাজ্জল হোসেন রায়ে উল্লেখ করেছেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, করোনার ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে মানুষের জীবন নিয়ে খেলেছেন জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারপারসন ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আরিফুল হক চৌধুরীসহ আট আসামি। তাই আসামিদের সাজা দেওয়া প্রয়োজন।
বিচারক বলেন, ডা. সাবরিনা-আরিফসহ অন্য আসামিরা করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছে। রাষ্ট্র যখন নাগরিকের করোনা পরীক্ষা বিনামূল্যে করার দায়িত্ব নেয়। তখন তারা করোনার ভুয়া পরীক্ষা করে মানুষের জীবন নিয়ে খেলেছে। তারা মানুষদের করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট দিতো। এজন্য তাদের সাজা দেওয়া হলো।
-770x450.jpg)
রায় ঘোষণার আগে সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাদের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। তাদের রাখা হয় আদালতের হাজতখানায়। পরে তাদের আদালতে ওঠানো হয়।
মামলায় ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেয়। তবে, আসামিপক্ষের আইনজীবীর দাবি মামলায় কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাবার পরও সাবরিনাকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।
করোনার নমুনা সংগ্রহ ও ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগে ২০২০ সালের ২৩ জুন জেকেজি হেলথ কেয়ারের সিইও আরিফুলসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ।

একই বছরের ১২ জুলাই সাবরিনাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক ছিলেন। গ্রেপ্তার হবার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: দিঘলিয়ায় দিনভর একের পর এক পরিদর্শন দল
মামলা সূত্রে জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই জেকেজি হেলথকেয়ার ২৭ হাজার মানুষকে ভুয়া রিপোর্ট দেয়।
এ অভিযোগে ২০২০ সালের ২৩ জুন অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করলে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
একাত্তর/এসি
