কখনো চাকরি দেয়ার কথা বলে, কখনো চাকরি হয়ে গেছে জানিয়ে কিংবা কখনো প্রশিক্ষণ বাবদ মোটরসাইকেল-ল্যাপটপ দেয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেয়া হতো অসহায় মানুষের টাকা।
অল্প টাকা খরচ হলেও ভালো বেতনের চাকরির আশায় সহজেই সে ফাঁদে পা দিতো বেকার যুবকরা। এমনই এক চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।
বুধবার দুপুরে মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রেজাউল মাসুদ।
তিনি জানান, চক্রের মূলহোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। গ্রেপ্তাররা হলেন মজিবুর রহমান, দুই নারী সহযোগী লাবনী আক্তার ও জান্নাতুল ফেরদৌস ময়না।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের আদলে বিভিন্ন নামে প্রতিষ্ঠান খুলে পত্রিকায় শুধু একটি ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে বলা হতো চাকরির আবেদন করতে। টাকা চাওয়া হতো মোবাইল ব্যাকিংয়ের মাধ্যমে।
এসব প্রতিষ্ঠানের টিআইএনসহ সরকারি নিবন্ধনও ছিলো। তাই সহজেই এদের ফাঁদে পা দিতো চাকরি প্রার্থী মানুষ। তবে প্রতারিত হওয়ার পর গচ্চা দেয়া টাকার পরিমাণ কম হওয়ায় পুলিশে অভিযোগ করেনি বেশিরভাগ ভুক্তভোগী।
পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। তারা উত্তরায় নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নামে একটি অফিস খুলে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করেছে।
বিভিন্ন জেলার শিক্ষিত ও বেকার যুবকদের চাকরি দেয়ার প্রলোভন দিয়ে ও জামানত বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা রাখে আবার কখনো প্রশিক্ষণ, ল্যাপটপ কিংবা মোটরসাইকেল দেওয়ার নাম করে অগ্রীম অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
এ বিষয়ে সাইবার পুলিশ সেন্টারে (সিপিসি) একটি অভিযোগ আসে। অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযোগকারী ভিকটিম ছাড়াও সারাদেশে অসংখ্য বেকার চাকরিপ্রার্থীরা এ চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছেন।
পরে সাইবার মনিটরিং টিমের একটি চৌকস দল গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর দক্ষিণখান থানার আশকোনা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মজিবুর রহমানের বরাতে বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, তিনি তার অন্যান্য সহযোগীদের যোগসাজশে গত ৫ বছরে প্রায় ২৫ হাজার বায়োডাটা সংগ্রহ করেছেন।
এসব বায়োডাটা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে গত ৩ বছরে প্রায় এক কোটি ৮৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে রেজাউল মাসুদ বলেন, চাকরির বিজ্ঞপ্তি দিলেই চাকরিপ্রার্থীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে আবেদন করেন। এটা ঠিক না।
এছাড়া চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা চাইলে বুঝতে হবে চক্রটি প্রতারক। একই ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মূলহোতা মজিবুর রহমানের আগে ২০১৮ সালে একাধিকবার গ্রেফতার হয়। পরে জামিনে বের হয়ে একই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
একাত্তর/এআর
