আট বছর আগে নাকে ভুল অপারেশনে জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছেন চট্টগ্রামের আব্দুর রহিম। সেই অপারেশনের পর তার মুখে তৈরি হয়েছে প্রায় দশ কেজি ওজনের টিউমার।
দেশের নামকরা চারটি ল্যাবে সেই টিউমার পরীক্ষা করার পর ফলাফল নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে ভুল চিকিৎসায় যে এই টিউমার, এ ব্যাপারে তাদের কোন সন্দেহ নেই।
আর, রহিমের স্বজনরা বলছেন, এই চিকিৎসা তাদের সাধ্যের মধ্যে নেই। অথচ ভুল চিকিৎসার মাশুল গুণতে হচ্ছে আব্দুর রহিমকেই। কাটাচ্ছেন অনিশ্চিত অসুস্থ জীবন।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ছেলে আব্দুর রহিম। আট বছর আগেও একটি মায়াবী চেহারা ছিলো তার। ছিলো স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু একটি ভুল চিকিৎসায় এখন তার জীবন যেতে বসেছে।
বেঁচে থেকেও যুবকটি যেন মৃতপ্রায়। তার মুখের অবস্থা দেখলে সবাই ভয় পায়। কেউ কাছে যায় না। মা ছাড়া কেউ তাকে ছুঁয়েও দেখে না।
২০১৪ সালে রহিমের নাকের মাংস বাড়ার অপারেশন হয় চট্টগ্রামের এক হাসপাতালে। স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পরই মুখ ফুলতে শুরু করে। এক সময় মুখের ওজন হয় দশ কেজি।
রহিমের বাবা মারা গেছে ২১ বছর আগে। বড় ভাই একটি দোকানের কর্মচারী। বেতন মাত্র সাত হাজার টাকা। এই টাকায় তিনজনের পরিবারে বেঁচে থাকাই দায়।
তবুও ছোট ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য সব দিয়েই গেলো আট বছর ধরে লড়ছেন বড় ভাই। কিন্তু এখন তিনি অনেকটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
হতদরিদ্র এই যুবকের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়িয়েছে বেশ ক’জন তরুণ। যাদের চেষ্টায় চট্টগ্রাম থেকে এখন রামপুরার মাল্টি কেয়ার হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।
চিকিৎসক বলছেন, এখন পর্যন্ত রহিমের পাঁচ দফা অপারেশনে টিউমারের অনেকটা অপশারন হয়েছে। এরপরও কেন তার টিউমারটি বারবার ফিরে আসছে।
এর কারণ জানতে ঢাকার চারটি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা হয়েছে। কিন্তু, ফলাফল এসেছে চার রকম। তাই রোগ নির্ণয় করতে গিয়েই হিমশিম অবস্থা।
রহিমের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, রোগ নির্ণয় হলে চিকিৎসা সহজ হতো। বিনা পয়সাতেই রহিমের অপারেশন করছেন এই চিকিৎসক।
আরও পড়ুন: আসামিকে পেয়েও গ্রেপ্তার না করে ফিরে গেলো পুলিশ!
মাল্টিকেয়ার হাসপাতালও যতটা সম্ভব সাহায্যের চেষ্টা করছে। কয়েকজন তরুণ তার প্রতিদিনের খরচ যোগাচ্ছে। সবারই চাওয়া স্বাভাবিক চেহারাতেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসুক রহিম।
একাত্তর/এসি
