বাংলাদেশে ঘূণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাব আর নেই। লঘুচাপে পরিণত হয়ে মঙ্গলবার বিকালের মধ্যে সেটি আরও দুর্বল হয়ে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল থেকে ভারতের আসামে চলে যায়।
এরপর সন্ধ্যার আগেই সেটি ভুটানের সীমান্তে পাহাড়ের গায়ে বিলীন হয়েছে। তবে, খবর হলো আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরে আরেকটি ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা আছে।
কিন্তু সেটি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। তবে, এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়ার তাগিদ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
বরিশালের খেপুপাড়া আর ভোলার মাঝের চ্যানেল দিয়ে আগ্রসর হয়ে চট্রগ্রাম কক্সবাজার, ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা দিয়ে লঘুচাপে রূপ নিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে ঘূর্নিঝড় সিত্রাং।
সোমবার সন্ধ্যা থেকে আঘাত হানতে শুরু করা এই ঘূর্ণিঝড়টি ভোরেই শক্তি হারিয়ে মঙ্গলবার বিকেলেই বিলীন হয়ে যায়। ঝড়ের কেন্দ্র আঘাত হানার পর বাতাসে গতি ছিলো ৭৪ কিমি।
সিত্রাংয়ের প্রভাবে ভোলায় সর্বোচ্চ ছয় ফুট পানির উচ্চতা রেকড করা হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বরিশালে সর্বোচ্চ ৩২৪ মিলি মিটার।
আবহাওয়া অফিস বলছে, ডিসেম্বরে আরেকটি ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা আছে। তবে এটি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাবে কিনা, তা এখনই নিশ্চিত নয়।
আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান জানান, দেশের উপকূলীয় অঞ্চল কখনই ঘূর্ণিঝড় মুক্ত নয়। তাই এসব মোকাবেলায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া গেলো ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি কম হয়।
তবে ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে সোমবার দিনভর যে বৃষ্টি হয়েছে তা ফসলের বেশ ক্ষতিকর। অসময়ের অতিরিক্ত বৃষ্টি সব সময় ক্ষতির কারণ।
আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান আরও জানান, বৃষ্টিপাতের কারণে দুই একদিন শীতের অনুভূতি হতে পারে। তবে এখনই শীত আসছে না। জানুয়ারীতে পুরো শীত পড়বে।
সিত্রাং নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা গুজব ছড়ানো হয়েছিলো। যার কোনটাই সত্য হয়নি। যে কোন দূর্যোগে আতংক না ছড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
একাত্তর/এআর
