মো. মুস্তাকিমের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। চট্টগ্রামে ডায়ালাইসিসের খরচ বাড়ানোর প্রতিবাদ করায় গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
রোববার (১৫ জানুয়ারি) বেলা দুইটার দিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. অলি উল্লাহ শুনানি শেষে এই জামিন আদেশ দেন।
মুস্তাকিমকে আইনি সহায়তা দিয়েছেন হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন মহাসচিব জিয়া হাবিব আহসান গণমাধ্যমকে বলেন, শুনানি শেষে আদালত মুস্তাকিমের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তার মুক্তির জন্য জামিননামা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।
ছেলের জামিনের জন্য আজ সকালে আদালতে আসেন মা নাসরিন আক্তার। জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর আদালতের বারান্দায় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নাসরিন আক্তারের দুটি কিডনিই বিকল। সপ্তাহে ডায়ালাইসিস করাতে হয় তিনবার। সাত বছর ধরে এভাবে বেঁচে থাকার লড়াই করছেন তিনি। তার স্বামী মারা গেছেন।
৫৫ বছরের এই নারীর একমাত্র অবলম্বন মাদ্রাসাপড়ুয়া ২২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ মুস্তাকিম। তার টিউশনির টাকাতেই চলতো নাসরিন আক্তারের ডায়ালাইসিসের খরচ।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় হেরোইন বিক্রির দায়ে তরুণের যাবজ্জীবন
গত মঙ্গলবার ডায়ালাইসিস ফি বৃদ্ধি এবং সরকারিভাবে ভর্তুকি কমিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সামনের সড়কে কিডনি রোগী ও স্বজনদের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে মুস্তাকিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকেসহ অজ্ঞাতপরিচয়ের ৫০ থেকে ৬০ জন রোগীর স্বজনকে আসামি করে সরকারি কাজে বাধাদান ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা করে পুলিশ।
গত শুক্র ও শনিবার জাতীয় দৈনিকে ‘ডায়ালাইসিসের খরচ জোগানো একমাত্র ছেলেটি জেলে, দিশেহারা মা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর ওই মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান যোগাযোগ করে আর্থিক সহায়তা ও ডায়ালাইসিসের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আদালত সূত্র জানায়, আজ দুপুরে প্রায় অর্ধশতাধিক আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন।
একাত্তর/আরএ
