সোমবার রাতের আগুনে পুড়ে ছাই তেজগাঁওয়ের রোলিং মিল বস্তির প্রায় ২০০ ঘর। সব হারিয়ে রাস্তায় নেমেছেন নিম্নআয়ের নিঃস্ব মানুষ। তাদের পুনর্বাসনেরও কোনো ব্যবস্থা হয়নি।
তেজগাঁওয়ের কুনিপাড়া বস্তির ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, বস্তি এলাকায় প্রবেশের মতো রাস্তা না থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে দেরি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে।
ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে ছাই। ধ্বংস স্তূপে রূপ নিয়েছে সাজানো সংসার। ধ্বংসস্তূপের হারানো সংসারের শেষ সম্বল খুঁজছিলেন আগুনে সব হারানো মানুষ।
দুই সন্তান ও স্বামী নিয়ে এই ঘরে থাকতেন আঁখি বেগম। ঘরে ছিল টিভি, ফ্রিজ, আলমারি। এখন তা পুড়ে ছাই। পোড়া ঘরে কাঁদছিলেন তিনি।
আগুনে মাথা গোজার ঠাঁই হারিয়ে তাদের ঠিকানা এখন রাস্তায়। এক মাসের শিশুকে নিয়ে গাছ তলায় ২৪ ঘণ্টা পার করেছেন এক মা। ছোট শিশু সন্তান নিয়ে এমন অনেক মা-ই আছেন দুঃশ্চিন্তায়। কারণ আসছে রাতটি কোথায় কাটাবেন সেই ব্যবস্থা এখনও হয়নি।
পুড়ে যাওয়া বস্তির পাঁচটি ভবন ছিলো অবৈধ। একতলা ইটের বাড়ির ওপর ঝুকিপূর্ণভাবে তৈরি হয়েছে চারতলা উচু টিনের বাড়ি। প্রতি তলায় ছিলো ৪০টি পরিবার। দোকানপাট ছিলো ৫০টি।
টিনশেডের চারতলা ভবনে তিনতলার একটি ঘর থেকে আগুনের শুরু। প্রতি ঘরে কমপক্ষে এক থেকে দুই লাখ টাকার আসবাবপত্র ছিলো। বস্তির টিনগুলো পুড়ে মুড়িয়ে গেছে।
রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা। একেকটি ঘরের ভাড়া ছিলো মাসে সাড়ে তিন থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত। যদিও ঘরগুলোর মালিকের দাবি এখানে অবৈধ কিছু নেই।
মঙ্গলবার সকালে পোড়া বস্তিজুড়ে মূল্যবান বস্তু খুঁজে পাওয়ার আশায় ধ্বংসস্তূপে অনেককেই খোঁড়াখুঁড়ি করতে দেখা যায়। তবে আগুনের শিখায় বেশিরভাগই ছাই হয়ে গেছে।
বস্তিতে গড়ে ওঠা দোকান বা টিনশেডের ঝুঁকিপূর্ণ এমন বাড়ির হদিস নেই সিটি কর্পোরেশনের কাছেও। কখন কিভাবে এসব ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে তার কিছুই জানে না তারা।

স্থানীয় কমিশনার শুধু সকালে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে দুপুরের খাবার দিয়েছেন। তবে তাদের আশ্রয় কোথায় হবে, সেটি তারও অজানা।
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার কুনিপাড়ায় রোলিং মিল বস্তিতে সোমবার রাত আটটার দিকে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আরও পড়ুন: রপ্তানির আড়ালে চার প্রতিষ্ঠানের ৩৮০ কোটি পাচার
এ ঘটনায় বস্তির শতাধিক ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাৎক্ষনিকভাবে আগুনের কারণ জানা যায়নি। তবে কারণ জানতে মাঠে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দল।
একাত্তর/এসি
