আগুনের ঝুঁকিতে গাউসিয়া, জানালো পরিদর্শন দল

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৩, ০৩:২৩ পিএম

রাজধানীর কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট ও বিপণিবিতানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জরিপ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাজধানীর গাউসিয়াসহ সাতটি মার্কেট পরিদর্শন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।

ফায়ার সার্ভিসের সাথে এই পরিদর্শনে আরও যুক্ত হয়েছে এনএসআই এবং ডিজিএফআই-এর দুটো গোয়েন্দা দল।

রাজধানীর গাউসিয়া মার্কেট পরিদর্শন করে দেখা যায় মার্কেটের প্রতি তলার সিঁড়ির আশেপাশে দোকানগুলো এমনভাবে বসানো হয়েছে যে- যদি কোন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে তাহলে এই মার্কেটের সিঁড়িগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যাবে। ফায়ার সার্ভিস বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়েছে দোকানের সারিগুলোতে রাখা মালামালের দিকে। সিঁড়ি ও রাস্তার পাশে রাখা মালামাল চলাচলের পথকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। 

ফায়ার সার্ভিসের দলটি দেখতে পায় মার্কেটে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাপনা নেই, নেই যথেষ্ট ফায়ার এক্সটিংগুইশার এবং অগ্নি-সতর্কীকরণ এলার্ম। 

image


ফায়ার সার্ভিসের দলটি মার্কেটের সাজসজ্জায় ব্যবহার করা জিনিসপত্রের দিকেও আঙুল তুলেছেন। অগ্নি-সতর্কতার অংশ হিসেবে এসব অতিরিক্ত সাজসজ্জাও সরিয়ে ফেলতে হবে।

জরিপ চলবে পুরো রাজধানী জুড়েই

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক মো. মাইন বলেছেন, রাজধানী সুপার মার্কেট ও গাউছিয়া মার্কেটসহ রাজধানীতে বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষে থেকে এই সবগুলো মার্কেটই সার্ভে করা হবে ক্রমান্বয়ে।

মহাপরিচালক আরও জানান, এসব মার্কেটে বিএমডিসি কোড অনুযায়ী প্রবেশ কিংবা বাহির হওয়া এবং অগ্নিনির্বাপণে যে ব্যবস্থা থাকার কথা, তা নেই। তাই আমার কাছে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ। মার্কেটের মালিকপক্ষকে নিয়ে এ সার্ভে বা জরিপ করা হবে এবং পরবর্তী করণীয় জানিয়ে দেওয়া হবে।

image

আগুনের ঝুঁকির কারণ হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কেটগুলোতে আগুন নির্বাপণের ব্যবস্থা নেই, আলো-বাতাসের স্বল্পতা, বিদ্যুতের তারের ছড়াছড়ি ও সরু গলি। সেই মার্কেটগুলোতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশের পর্যাপ্ত সড়ক নেই। হঠাৎ আগুন লাগলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে অনেক মানুষ বের হওয়ার কোনো পথ নেই। 

বারবার নোটিশ দিয়েও লাভ হচ্ছে না 

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকায় যেসব মার্কেট ঝুঁকিপূর্ণ সেইগুলোতে আমরা আবার নোটিশ দিবো। ফায়ার সার্ভিসের কাজ হচ্ছে শুধু নোটিশ দেয়া। সিলগালা করার কাজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তিনি জানান, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বঙ্গবাজার মার্কেট কর্তৃপক্ষকে ফায়ার সার্ভিস ৪ বার নোটিশ দিয়েছিল যে, মার্কেটটি আগুনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু, মার্কেট কর্তৃপক্ষ আমাদের কোনো কথা আমলে নেয়নি।

দোকান মালিকেরা জানিয়েছেন, বড় ক্ষতি এড়াতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে যেই ধরণের সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হবে তা তারা মেনে চলবেন। 

ঝুঁকিতে ৪৫০ এর বেশি মার্কেট

ঢাকার প্রায় ৪৫০টি মার্কেট ও শপিংমল আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এই সব মার্কেট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার নোটিশ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। একাধিকবার পরিদর্শনেও গেছে তারা। বার বার সতর্ক করা হয়েছে যে দ্রুতই মার্কেট সরিয়ে নিতে। বলা হয়েছে, আগুন নির্বাপণের যথেষ্ট ব্যবস্থা করতে। কিন্তু, তারা কোনো বিষয় আমলে নেয়নি। এমনকি যে বঙ্গবাজারে আগুনের ঘটনা ঘটলো সেখানেও বহুবার নোটিশ দিয়েছিলো ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। কিন্তু, মার্কেট কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি।

ঝুঁকিতে থাকা এই ৪৫০টি মার্কেটের মধ্যে রয়েছে গাউসিয়া, চাঁদনীচক, নীলক্ষেতের বইয়ের দোকান, টিকাটুলির জুতার মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, বঙ্গবাজার মাজার রোডের কাপড়ের মার্কেট ও রাজধানী সুপার মার্কেট, শাঁখারী বাজারের দুই সড়কের পাশের মার্কেটসহ শতাধিক মার্কেট আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে। 

রাজধানীর ৭২ হাজার ভবন ঝুঁকিপূর্ণ!

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, রাজধানীজুড়ে আছে ৭২ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ভবন।

রাজধানীর ভবনগুলো কেন এতটা দুঘর্টনাপ্রবণ–এমন প্রশ্নে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়ম না মেনে ভবন তৈরি, অনিরাপদ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ, ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ মেরামত না করাসহ ভবনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলোর মূল কারণ।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, রাজউক যেখানে বছরে গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার ভবনের অনুমোদন দেয় কিন্তু গড়ে প্রতিবছর ৯০ হাজারের বেশি ভবন তৈরি হচ্ছে। তাহলে বাকিটা কীভাবে হচ্ছে? 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা এখন টাইমবোমায় পরিণত হয়েছে। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় বিপর্যয়। আর এ জন্য সেবা সংস্থাগুলোর দায়িত্বে অবহেলা ও জনগণের অসচেতনতাই দায়ী।

আরও পড়ুন: বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ড: তৃতীয়দিনেও পানি ছেটানো হচ্ছে

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন বড় ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটলে শহরে একযোগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ, অসংখ্য গ্যাস লাইন নগরীর তলদেশে জালের মতো ছড়িয়ে আছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছে তার নকশাও নেই। তারা জানেও না কোথায় কোথায় গ্যাস লাইন রয়েছে! আবার সেগুলোর সংস্কারও করা হচ্ছে না। যদি সেগুলো বিস্ফোরণ হয়, তবে বিপুল পরিমাণ গ্যাস উদ্‌গিরণ হবে।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিটি ভবনে অটোভালভিং সিস্টেম নিশ্চিতের তাগিদ ফায়ার সার্ভিসের। অটোভালভিংয়ে নির্দিষ্ট মাত্রার কম্পন অনুভূত হলেই সবভবনের গ্যাস সংযোগ স্বয়ংস্ক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। আর তাতে গ্যাস বিস্ফোরণ সংক্রান্ত দুর্ঘটনা শতভাগ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।


একাত্তর/এআর


নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে আকিজ কলেজ অব হোম ইকোনমিক্স।
“সুদৃঢ় অভ্যাস, শক্তিশালী লিভার” এই স্লোগানকে ধারণ করে ১৯শে এপ্রিল বিশ্ব লিভার দিবস-২০২৬ উদযাপন করেছে মিনার্ভা হাসপাতাল লিমিটেড।
রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত অরোরা স্কিন অ্যান্ড এয়েস্থেটিকস-এ ‘ডার্মাটোলজি ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ’ আয়োজিত “ফান্ডামেন্টাল ট্রেনিং অন ডার্মাটোলজি” কোর্সের ২৫তম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত...
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন রাজধানীর গুলশানে ইএমকে সেন্টারে আয়োজিত ‘সিলেক্টইউএসএ ২০২৬ টেক পিচ’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর