আংশিকভাবে খুললো আগুনে পোড়া রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেট। বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই দ্বিতীয় ও নিচতলার ক্ষতিগ্রস্ত কিছু দোকানে বেচাকেনা শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে, তৃতীয় তলায় এখনো চলছে ধ্বংসস্তুপ সরানোর কাজ। বিকল্প উপায়ে সেখানে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া দাবী জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা। কারণ সন্ধ্যার পর ক্রেতার সমাগম বেশি হয়।
গত শনিবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর ঢাকা কলেজ সংলগ্ন নিউ সুপার মার্কেটে ভয়াবহ আগুন রাগে। এত কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। ফায়ার সার্ভিস বলছে, মার্কেটে ১৩০০ দোকানের মধ্যে প্রায় ২৪৩টি পুড়ে গেছে।
এরমধ্যে নিউ সুপার মার্কেটের তৃতীয়তলার বেশিরভাগ দোকানই পুড়ে গেছে। শুধু কাঠামোটুকুই টিকে আছে। আর কিছু অবশিষ্ট নেই। মঙ্গলবার তৃতীয়দিনের মতো এই ফ্লোরের পোড়া ধ্বংসস্তুপ সরানোর কাজ করেছেন ব্যবসায়ীরা। আবর্জনা সরানো শেষে কিছু কিছু দোকান সাজানোর কাজও চলেছে। সবার প্রানান্ত চেষ্টা যতো দ্রুত সম্ভব দোকান খুলে দেয়ার।
বিদ্যুত না থাকায় পোড়া ধ্বংসস্তুপ সরানো কিংবা দোকান সাজাতে ব্যবসায়ীদের বেগ পেতে হচ্ছে। তাদের চাওয়া বিকল্প উপায়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হোক। ব্যবসায়ীরা বলেন, পুড়ে যাওয়া দোকান বাদ দিয়ে অন্য দোকানে যেন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়। যাতে তারা দোকান খুলে ঈদের এ সময় বিক্রি করতে পারে। কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যাবে।
মার্কেট বণিক সমিতির আহ্বায়ক মোহাম্মদ মারুফ হোসেন বলেন, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিচতলার কিছু দোকান খুলেছে। আমরা ফায়ার সার্ভিসের কাছে আবেদন করেছি তারা যেন সুপারিশ করে যে দোকানগুলো পুড়েছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার বিষয়। এ সুপারিশ পেলে আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ পাবো আশা করি।
তবে ভিন্নচিত্র মার্কেটের দ্বিতীয় ও নীচতলায়। ধোঁয়া ও পানিতে মালামাল নষ্ট হলেও বেশিরভাগ দোকানই অক্ষত আছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে এসব দোকানে মালামাল সাজানোর কাজ শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জ লাইট কিংবা বিকল্প আলো দিয়ে বেচাকেনার প্রস্তুতি তাদের। দুপুর নাগাদ বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ক্রেতাকেও মার্কেটে আসতেও দেখা গেছে।
স্বল্প পরিসরে খুলে দেয়া হলেও আশানুরূপ বিক্রি শুরু হয়নি। আগুন লাগার কারণে পুরো মার্কেটে এখনো বিদ্যুৎ নেই। আবার দোকানগুলোও গুছিয়ে উঠতে পারেনি। ঈদ সামনে রেখে বুধবার সকাল থেকে দ্বিতীয় ও নীচতলার দোকানগুলোতে পুরোদস্তুর বেচাকেনার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
একাত্তর/এআর
