শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা এসি মেরামত করার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের আইসিউ ১২ দিন ধরে বন্ধ থাকায় জরুরি অপারেশন বন্ধ ছিলো- বিভিন্ন সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমে আসা এমন সংবাদের যথার্থতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
একাত্তর টেলিভিশন সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পেয়েছে, একদিনের জন্যও হার্ট ইন্সটিটিউটের অপারেশন ও চিকিৎসা সেবাসহ কোনো ধরনের কার্যক্রমই বন্ধ ছিলো না। তাহলে কেন এমন ধরনের খবর, এমন প্রশ্ন রাখা হয়েছিলো সেখানকার কর্তৃপক্ষের কাছে।

গণমাধ্যমের এমন খবরের ব্যাখ্যা দিয়ে হৃদরোগ ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদের ছুটির সময় এমনিতেই অপারেশন বন্ধ থাকে। ছুটি শেষে এসি মেরামত ও আইসিইউ জীবাণুমুক্ত করার কাজে সময় লেগেছে আরও তিনদিন।
শুধু রাজধানী নয় হার্টের জটিল ও গুরুতর সমস্যার জন্য দূর-দূরান্তের স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসার জায়গা জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল।
দেশের অন্য সব সরকারি হাসপাতালের মতো এখানেও চাহিদার তুলনায় সামর্থ্য সীমিত। তার ওপর অভিযোগ উঠেছে, আইসিইউর এসি মেরামতের জন্য গেলো ১০ থেকে ১২ দিন ধরে হাসপাতালটিতে কোন অপারেশন হচ্ছে না।

যদিও রোববার সরেজমিনে গিয়ে মেলে ভিন্ন চিত্র। জরুরি অপারেশন কিংবা আইসিইউ কোনটাই একদিনের জন্যেও বন্ধ ছিলো না। গেলো ১৯ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছিলো ঈদের ছুটি। এই সময়ে স্বাভাবিক নিয়মেই বন্ধ ছিলো অপারেশন। রোগির চাপও ছিলো কম।
তাই সিদ্ধান্ত হয় আইসিউইউ জীবাণুমুক্ত করার নিয়মিত কাজ ও এসি মেরামত হবে ছুটি শেষ হবার পর। ২৫ তারিখ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত আইসিইউ’র এসি মেরামতের কাজ চলে। তাই এই তিনদিন আইসিউ বন্ধ রাখায় কোনো অপারেশন হয়নি।
তাহলে এই সময় কোথায় ছিলেন জরুরী রোগীরা- এমন প্রশ্নের জবাবে হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের কার্ডিও সার্জারি বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এ কে এম মনজরুল আলম বলেন, আমরা বিকল্প আইসিইউ ব্যবহার করে সব ধরনের সেবা অব্যাহত রেখেছি।

তিনি আরও জানান, সাধারণত ছুটির দিনগুলোতে জীবণুমুক্ত করতে আইসিইউ খালি করাটা নিয়মিত কার্যক্রম। এ সময় রোগীর চাপ কম থাকায় বিকল্প আইসিইউতে রাখা হয় জরুরি রোগীদের। এসির সার্ভিসিংও নিয়মিত ঘটনা। তবে এবার অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে কিছু এসির যন্ত্রাংশ বিকল হওয়ায় মেরামতে সময় লেগেছে বেশি।
আরও পড়ুন: স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার গল্প শোনাবেন শেখ হাসিনা
কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার মূল আইসিইউ খোলা থাকলেও সেখানে রোগী রাখা হয়নি। সোমবার সরকারি ছুটির পর মঙ্গলবার থেকে অপারেশনের শিডিউল যেমন দেয়া হয়েছে তেমনি আইসিইউও প্রস্তুত আছে।
একাত্তর/এসি
