ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে থাকা প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. আসাদুজ্জামানের আদালতে জামিননামা দাখিল করেছেন। একই সঙ্গে তিনি একই আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেছেন। আগামী ১৬ আগস্ট জামিন আবেদনের বিষয়ে শুনানির দিন ঠিক করেছেন আদালত। ওই দিন পর্যন্ত জামিনে থাকবেন তিনি।
বুধবার (৩ মে) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে উচ্চ আদালত থেকে পাওয়া আগাম জামিনের জামিননামা দাখিল করেন। আদালত ২০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিননামা গ্রহণ করেন।
প্রথম আলো সম্পাদকের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী জানান, উচ্চ আদালত প্রথম আলো সম্পাদককে আগাম জামিন মঞ্জুর করেছেন। উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী তিনি আজ আদালতে জামিননামা দাখিল করার অনুমতি চাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে বিবিধ আবেদন করে জামিন চেয়েছেন। তিনি কোনো অপরাধ করেননি।
তিনি জানান, আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ আগস্ট দিন ঠিক করেছেন। পরবর্তী শুনানির তারিখ পর্যন্ত তিনি জামিনে থাকবেন।
স্বাধীনতা দিবসের দিন ‘বিতর্কিত সংবাদ’ প্রকাশ করায় ওইদিন রাতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রমনা থানায় একটি মামলা হয়, যেখানে হুকুমের আসামি হিসেবে নাম রয়েছে মতিউর রহমানের।
রমনা থানার ওই মামলায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের ছাড়াও পত্রিকাটির নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামানকেও আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে ‘সহযোগী ক্যামেরাম্যান’সহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
৩০ মার্চ দিবাগত রাতে আবদুল মালেক ওরফে মশিউর মালেক নামে সুপ্রিমকোর্টের একজন আইনজীবী বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে একজন শ্রমজীবী মানুষকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘পেটে ভাত না জুটলে স্বাধীনতা দিয়া কী করুম। বাজারে গেলে ঘাম ছুটে যায়। আমাগো মাছ, মাংস আর চাইলের স্বাধীনতা লাগব।’
ওই মন্তব্য দিয়ে শিরোনাম করা হলেও ছবি দেওয়া হয় আরেক শিশুর, যার কথা প্রতিবেদনের ভেতরে ছিল। ওই ছবি ও শিরোনাম দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কার্ড পোস্ট করা হয়, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মুহূর্তে প্রথম আলোর এই খবর ভাইরাল হয়ে যায়। প্রথম আলোর সমালোচনা করে ব্যাপক সমালোচনা করেন নেটিজেনরা।
আরও পড়ুন: পাঁচ মামলায় হেফাজত নেতা মামুনুল হকের জামিন
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে, ওই শিশুকে টাকা দিয়ে ছবি তুলতে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং সেই ছবি ছাপা হয়েছে।
তীব্র সমালোচনার মুখে প্রথম আলো প্রতিবেদনটি সংশোধন করে, ছবি সরিয়ে শিরোনাম বদলে দেয়। পাশাপাশি তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া পোস্টও প্রত্যাহার করা হয়।
স্বাধীনতা দিবসে প্রথম আলোর এমন প্রতিবেদনে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ উপাদান থাকা এবং ‘স্বাধীনতাকে হেয় করে’ বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
একাত্তর/এসি
