মানুষের ঘনত্ব ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে রাজধানীর তাপমাত্রা বাড়ছে। সে সঙ্গে বাড়ছে এর স্থায়ীত্বও। তাই বৃক্ষরোপণসহ নানা বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে নগরীর তাপমাত্রা কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। এ বিষয়ে ডিএনসিসি’র সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক অ্যাড্রিয়েন আরশট রকফেলার ফাউন্ডেশনের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে।
গেলো কয়েক দশকে রাজধানী ঢাকার জনসংখ্যা যেমন কয়েকগুণ বেড়েছে তেমনি মানুষের বাসস্থান, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণের কারনে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ঢাকার সামগ্রিক জলবায়ুর ওপর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের গবেষণা বলছে, ১৯৮১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ঢাকার গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই ধারা বজায় থাকলে ২০২১ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়বে আরো প্রায় তিন ডিগ্রী সেলসিয়াস।
এই বিষয়ে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ জানান, তাপমাত্রা বৃদ্ধির গতি যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে তাপদাহের স্থায়ীত্ব। আগে গরম থাকতো বছরের তিন মাস। গত ১২ বছর ধরে সেটি থাকছে বছরে প্রায় আট মাস।
সমস্যাটিকে আমলে নিয়ে প্রথমবারের মতো শহরের তাপমাত্রা কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে ঢাকার নগর কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রেভিত্তিক অ্যাড্রিয়েন আর্শট রকফেলার ফাউন্ডেশনের সাথে একটি সমঝোতা চুক্তি সই করেছে উত্তর সিটি কর্পোরেশন।
বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এক সেমিনারে যোগ উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, এ কার্যক্রম পরিচালনায় উত্তর সিটিতে এশিয়ার প্রথম শহর হিসেবে বুশরা আফরিনকে চিফ হিট অফিসার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বুশরা আফরিন প্রচণ্ড গরমের প্রেক্ষাপটে ঢাকা উত্তরকে নিরাপদ করার জন্য নেতৃত্বে দেবেন। তাপমাত্রা কমাতে তিনি শহরব্যাপী নানা কর্মসূচি নেবেন। ঢাকা উত্তরের জনগণের মধ্যে তাপ সচেতনতা বৃদ্ধি, সুরক্ষা প্রচেষ্টা ত্বরান্বিতকরণসহ নতুন নতুন কাজ করবেন।
মেয়র আতিক ঢাকা শহরের তাপমাত্রা কমাতে আগামী দু’বছরে দু’লক্ষ গাছ লাগানোর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ঢাকা শহরের তাপমাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। দাবদাহের ফলে শহরের মানুষের জীবন ও জীবিকা আজ হুমকিতে। মানুষের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। শ্রমজীবী মানুষের কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
সেমিনারে ডিএনসিসি’র চীফ হিট অফিসার বুশরা আফরিন বলেন, আমরা শহরের প্রচণ্ড তাপ থেকে মানুষ ও সম্প্রদায়কে রক্ষা করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিভিন্ন শহরের নেতাদের এবং বিশেষজ্ঞদের একটি বৈশ্বিক সংগঠনে যোগ দিতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত।
তিনি বলেন, ঢাকার একজন স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে আমি জানি তীব্র তাপ প্রবাহ মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপের বিকল্প নেই। ঢাকা শহরে তাপমাত্রা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিশেষ করে স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ, নারী ও শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
আর্শটরকের পরিচালক ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাথি বাঘম্যান ম্যাকলিওড বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহ সারা বিশ্বের শহরগুলোতে একটি প্রেসার কুকারের মতো কাজ করছে এবং ঢাকার উত্তরে জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় এখানে ঝুঁকি আরো বেশি। তাই ঢাকা উত্তরে একজন চিফ হিট অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তার নেতৃত্বে এই শহরে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বুশরা আফরিনের ভূমিকা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় শহরগুলোর জন্য একটি রোল মডেল হিসাবে কাজ করবে। আর্শটরক ফাউন্ডেশন এই উদ্যোগের অংশীদার হতে পেরে গর্বিত এবং আর্শটরক ডিএনসিসির মানুষের সুরক্ষায় সম্ভাব্য সহযোগিতা প্রদান করবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগ ‘বিল্ডিং আরবান হিট রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক এই সেমিনার আয়োজন করে।
একাত্তর/এআর
