রাজধানীর সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে। মহাখালী ডিএনসিসি হাসপাতালে বেড়েছে ঢাকার বাইরের রোগী। স্থানীয় হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা না পেয়ে তারা ঢাকায় এসেছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, প্লাটিলেট কমার চাইতেও রোগীদের রক্তের ঘনত্ব কমে যাওয়াই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার তাগিদ দিচ্ছেন তারা।
পাঁচ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ আল শাফি। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মহাখালী ডিএনসিসি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বৃহস্পতিবার। চার দিনের জ্বরে তার রক্তের প্লাটিলেট নেমেছে ৩৩ হাজারে। তাই আতঙ্কিত পুরো পরিবার। ছুটে এসেছেন করোনার সময়ে তৈরি এই হাসপাতালটিতে।
গেলো কয়েকদিনে তার মতো অনেক শিশুই ভর্তি হয়েছে এই হাসপাতালে। প্রথম দিকে অনেকের অবস্থা খারাপ হলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন অনেকে। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে এখন বাড়ছে ঢাকার বাইরের রোগীদের চাপ।
শুক্রবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগীদের ভিড় ছিলো মহাখালীর এই হাসপাতালে। গুরুতর অবস্থা নিয়ে আসছে এদের অনেকে। প্রয়োজন হচ্ছে আইসিউ’র। কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু সংক্রমণের ধরণ ও লক্ষণ বদলে যাচ্ছে।
মহাখালী ডিএনসিসি হাসপাতালের মেডিক্যাল কনসালটেন্ট হুমায়রা জাহান তৃষা বলছেন, দিন দিন জটিল রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্লাটিলেট কমার চাইতেও রক্তের ঘনত্ব কমে যাওয়ার লক্ষণ মিলছে অনেকের মধ্যে। আর এটিকেই বেশি শঙ্কার বলছেন চিকিৎসকরা।
উল্লেখ্য, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় গেলো বছরের মতো এবারও মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা শুরু করেছে রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতাল। কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালটিকে ডেঙ্গু ডেডিকেটেড ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ও আক্রান্ত কমেছে
করোনা মহামারীর সময়ে শুধুমাত্র এই রোগের চিকিৎসা দিতে মহাখালীতে সাত দশমিক ১৭ একর জমিতে তৈরি ডিএনসিসির একটি বিপণিবিতানকে এক লাখ ৮০ হাজার ৫৬০ বর্গফুট আয়তনের হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়।
একাত্তর/এসজে
