সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘সংখ্যালঘু’ মনে না করার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সরকার মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের সমান অধিকারে বিশ্বাস করে এবং সেই লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদন বলছে, বিএনপির আমলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন বেশি হয়েছে। ২০০১ সালের নির্বাচনোত্তর সহিংসতার দগদগে ঘা এখনো দৃশ্যমান। ওই সময় ১৪ হাজার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন পাঁচ হাজার ৫৭১টি অভিযোগের তথ্য প্রমাণ খুঁজে পায়। এর মধ্যে খুনের ঘটনা ৩৫৫টি। ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ গুরুতর অপরাধের তিন হাজার ২৭০টি ঘটনা চিহ্নিত করা হয়।
এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন সূত্রের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ২০০১ সালের নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি-জামায়াত জোট হিন্দুদের ওপর তাণ্ডব চালায়। সেই নির্বাচনের পরের অবস্থা ছিলো আরও পরিকল্পিত, ছকবদ্ধ এবং গুরুতর।
সেসময় বিএনপি জোটের হামলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ছিলো বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, যশোর, কুমিল্লা ও নরসিংদী। ওই সময় আক্রমণকারীরা হিন্দুদের বাড়িতে ঢুকে তাদের পরিবারের সদস্যদের মারধর, সম্পত্তি লুটপাট এবং অনেক হিন্দু নারীদের ধর্ষণ করে। পাওয়া গেছে হিন্দু মেয়েদের অপহরণের খবরও।
১০ অক্টোবর ২০০১ সালে মুন্সিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালায় বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা।
১২ অক্টোবর ২০০১ সালের গৌরনদী, আগৈলঝাড়ায় নির্বাচনী বিজয়ের পাশবিক উল্লাস, প্রশাসন ছিলো নীরব। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে অন্তত ৫০টি।
৭ নভেম্বর ২০০১ সালের চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার মিঠানালার দাসপাড়ায় সোমবার মধ্যরাতে বিএনপি সন্ত্রাসীদের হামলায় আওয়ামী লীগ কর্মী সুনীল দাস সাধু নিহত হয় এবং প্রায় ৩০ জন নারী ও শিশু আহত হয়েছে। ধর্ষণ, হামলা ও লুটপাটে ৫১টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মন্ত্রীসভায় সংখ্যালঘু উপস্থিতি
২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে কাজ শুরু আওয়ামী লীগ সরকার।
নতুন মন্ত্রীসভার ৩৮ জন সদস্যের মধ্যে তিন জন অমুসলিম ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুইজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। তারা হলেন- শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার। এছাড়া তিনি একজন সনাতন ধর্মাবলম্বীকে পানি সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। তিনি হচ্ছেন- রমেশ চন্দ্র সেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের স্বীকৃতি
২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদনে বলেছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পদে প্রায় ১০ শতাংশ অমুসলিম নিয়োগ পায়।
এই প্রতিবেদনে বলা হয় ধর্মীয় আনুগত্য, বিশ্বাস ও চর্চার ওপর ভিত্তি করে সামাজিক নির্যাতন ও বৈষম্যে কমেছে।
প্রতিবেদন বলছে নির্যাতন কমেছে
পরিসংখ্যান বলছে, দেশে ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন নিপীড়ন হলেও ২০২২ সালে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নির্যাতন কমেছে। প্রতিমা ভাঙচুর, জমি দখলসহ কিছু ক্ষেত্রে অপরাধ কমেছে। ‘বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি: সমস্যা এবং উত্তরণ’ বিষয়ে এমপাওয়ারমেন্ট থ্রু ল অব দ্য কমন পিপলের (এলকপ) গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয় ‘সংখ্যালঘুরা তুলনামূলকভাবে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে অনেক ভালো অবস্থানে আছেন।’
