মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ খালেক শেখের ২২তম প্রয়াণবার্ষিকী আজ রোববার। মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সেনানী ২০০২ সালের ১০ মার্চ লিভার সংক্রান্ত জটিলতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের এই কৃতি সন্তান, জাতির পিতার বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ অনুসারী ও পুলিশ বাহিনীর সাবেক সদস্য বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের নির্দেশনার পরই এলাকার যুবকদের সংগঠিত করে মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। তিনি তখন স্থানীয় গোহালা টি সি এ এল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আড়াই হাত বাঁশের লাঠি তৈরি করে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে ভারতে পাঠান। এভাবে তিনি এলাকার প্রায় ৬০ জন যুবককে ভারতে পাঠান। যারা ফিরে এসে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
গোপালগঞ্জের এই কৃতি সন্তান মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস প্রতিটি মুহূর্ত পরিবারসহ মৃত্যুঝুঁকি মাথায় নিয়ে কাটান। তাদের বাড়িঘর একাধিকবার লুট করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। পাকিস্তানি মিলিটারি শিরশ্ছেদের জন্য ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে তার বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিচালনার কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাবেক পরিচালক শিল্পী ও সংগঠক আশরাফুল আলম পপলু তার তৃতীয় পুত্র।
এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও ঢাকা এবং গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের গোহালায় নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
প্রয়াণবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আজ মুনিরকান্দি আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা, পূর্বনওখন্ডা আলিয়া মাদ্রাসা, হেফজখানা ও এতিমখানায় কোরআন খতম ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। গ্রামের বাড়িতে সকাল থেকে কোরআন খতম এবং বাদ আসর মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকার বাসায় বাদ মাগরিব কোরআন খতম এবং দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। বিশিষ্ট সমাজসেবক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ খালেক শেখের আত্মার মাগফেরাতের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ীসহ সকলের প্রতি দোয়া প্রার্থনা এবং এ সকল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
