সম্প্রতি শেষ হওয়া বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। আর এজন্য উন্নত দেশগুলো দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও জলবায়ু বিষয়ক সাংবাদিকরা।
গ্লোবাল ক্লাইমেট মিডিয়া নেটওয়ার্ক (জিসিএমএন) বুধবার বিকেলে ভার্চুয়ালি কপ-২৯ পরবর্তী এক আলোচনার আয়োজন করে। আলোচনায় অংশ নেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন দেশের জলবায়ু সাংবাদিকরা।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলেন, কপ-২৯ এ উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু কীভাবে এই অর্থ দেয়া হবে তার উল্লেখ নেই। অথচ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর দাবি ছিলো, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রয়োজন ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। অথচ উন্নত দেশগুলো যে অর্থ দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে জানান তারা।
এছাড়া জলবায়ু অর্থায়নের নতুন লক্ষ্যমাত্রায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অবদান রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যা পরিস্থিতিকে জটিল করছে।
বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, জলবায়ু অর্থায়নের নামে উন্নয়নশীল দেশগুলো ঋণের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকির মধ্যে আছে। তাই জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়ে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সজাগ থাকতে হবে।

এছাড়া লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড নিয়েও ভার্চুয়াল আলোচনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান বিশেষজ্ঞরা। কারণ লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে কী পরিমাণ অর্থ আছে তা জানে না বিশ্বব্যাংক। অথচ বিশ্বব্যাংকই এই অর্থ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে।
গ্লোবাল ক্লাইমেট মিডিয়া নেটওয়ার্কের কনভেনর হাবিব রহমান বলেন, প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ধরে রাখা এখন বড় কঠিন।। কারণ উন্নত দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ কমাচ্ছে না। জলবায়ু ক্ষতি মোকাবেলায় অর্থও দিচ্ছে না। সব মিলিয়ে সামনে আরও কঠিন সময় মোকাবেলা করতে হবে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে।
তাই সব ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে একজোট হয়ে জলবায়ু অর্থায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে উন্নত দেশগুলো বাধ্য করতে কাজ করার উপর জোর দেশ সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি ব্রাজিলে ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত হবে কপ-৩০। সামনের কপে কীভাবে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায় করা যায় সে বিষয়ে গণমাধ্যমকে আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ভার্চুয়াল মিটিং এ অংশ নেন গ্লোবাল ক্লাইমেট মিডিয়া নেটওয়ার্ক এর কনভেনর হাবিব রহমান (সিনিয়র রিপোর্টার, একাত্তর টিভি, বাংলাদেশ), মেম্বার সেক্রেটারি বোরহানুল আশেকিন (সিনিয়র রিপোর্টার, চ্যানেল ২৪ বাংলাদেশ), সদস্য, শামীম জাহাঙ্গীর (এডিটর, জাস্ট এনার্জি নিউজ, বাংলাদেশ), সদস্য আজিজুর রহমান (স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দি ফিনানশিয়াল এক্সপ্রেস), এলিসা ক্যাবিয়াল (এডিটরিয়াল স্টাফ, ইম্প্রোমটাজিরো, ইতালি)।
এছাড়া যুক্ত হয়েছিলেন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন খান, ওয়াটার কিপারস এলিয়েন্সের সদস্য পরিচালক শরীফ জামিল ও ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামরুজ্জামান মজুমদার।
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নতুন অর্থনৈতিক কাঠামোর আহ্বান ড. ইউনূসের
জলবায়ু সম্মেলন: অর্থ ছাড়ে বিশ্ব মোড়লদের গড়িমসি