বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির আয়োজনে একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘কর্মক্ষেত্র হোক ডায়াবেটিস সহায়ক।’ প্রতিপাদ্যে এবারের আয়োজনের লক্ষ্য ‘কর্মজীবী জনগণের সাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি’। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলো অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড।
বুধবার (১২ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান, সভাপতি ডা. ফারিয়া আফসানা, সভাপতি (নির্বাচিত) ডা. শাহজাদা সেলিম, প্রেস ও মিডিয়া সম্পাদক অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেইনসহ দেশের খ্যাতিমান ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, হরমোন বিশেষজ্ঞগণ।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতি তিন জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে দুই জন ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় বসে থাকা, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের অভাব সবই এই রোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পাঁচটি মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। এগুলো হলো-
- ৮০% রোগীর সঠিক নির্ণয়
- ৮০% রোগীর রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ
- ৮০% রোগীর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
- ৪০ বছর বয়সী ৬০% রোগীর স্ট্যাটিন গ্রহণ
- ১০০% টাইপ-১ রোগীর জন্য সাশ্রয়ী ইনসুলিন ও গ্লুকোজ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবান পরিবেশ গড়ে তোলা গেলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বড়ো অগ্রগতি সম্ভব। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার ও মানসিক প্রশান্তি কর্মজীবীদের জন্য অপরিহার্য।
তারা আরও বলেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পরিকল্পনা, সুলভ ওষুধ সরবরাহ এবং কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবান সংস্কৃতি গড়ে তোলার এখনই সময়। অদৃশ্য বাস্তবতা আজকের দ্রুতগতির কর্মজীবনে দীর্ঘ সময় বসে থাকা, অনিয়মিত খাবার, মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব সবই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
গবেষণায় দেখা গেছে. বাংলাদেশের শহরে কর্মজীবী জনগোষ্ঠীর প্রায় ২০-২৫%
কোনো না কোনোভাবে ডায়াবেটিস বা প্রি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তবুও অধিকাংশ অফিস বা কর্মস্থলে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা খুবই সীমিত। অনেক কর্মী তাদের রোগ গোপন রাখেন। কারণ বৈষম্য, চাকরি হারানোর ভয় বা সহকর্মীর ভুলধারণা তাদের মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে তোলে। ফলে রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ মেয়াদে জটিলতা বৃদ্ধি পায়। ডায়াবেটিসের শুধুমাত্র হাসপাতাল বা ক্লিনিকের বিষয় নয়, এটি দৈনন্দিন জীবনযাপনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। একজন কর্মী যদি নিয়মিত খাবার খেতে না পারেন, ওষুধ গ্রহণ বা ইনসুলিন নিতে দেরি হয়, কিংবা বিশ্রামের সুযোগ না পান তাহলে তার রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন।
অন্যদিকে, যদি কর্মস্থলে সমর্থনমূলক পরিবেশ থাকে, যেমন- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা, হাঁটার বিরতি ও কর্মীদের মানসিক সহায়তা; তাহলে তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, প্রতিষ্ঠানেরও দীর্ঘমেয়াদি লাভ বয়ে আনে।
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি সব প্রতিষ্ঠান, কর্মজীবী জনগণ ও নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহবান জানায়- কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করুন, যাতে সবাই ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।
