একটি দুটি নয়, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের ছিল ছয়টি ফেসবুক একাউন্ট। একে একে তার পাঁচটিই ব্লক করতে পেরেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। শুধু তাইনা বিটিআরসির ডিজিটাল সিকিউরিটি টিম মুরাদের প্রায় ৩৮৭টি অডিও-ভিডিও লিংক পেয়েছে যেগুলো ছিল, অশ্লিল, কদর্য আর ভীষণরকম আপত্তিকর।
বিটিআরসি সেগুলো নিয়ে ফেসবুকের কাছে অভিযোগ করে। আমলে নেয় ফেসবুক; দুদিনের মধ্যেই তার ১৭টি অশ্লীল কন্টেন্ট সরিয়ে নেয় তাদের প্লাটফর্ম থেকে।
বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) টেলিকম রির্পোর্টারদের সংগঠন টিআরএনবির সাথে সংস্থাটি মতবিনিময় সভা করে। যেখানে তথ্যগুলো উল্লেখ করেন খোদ বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিকদার।
হাইকোর্টের নির্দেশ:
অডিও-ভিডিও দুই মাধ্যমেই একের পর এক বির্তক ছড়িয়েছেন সাবেক তথ্য ডা. প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। সে সব বিস্মিত করেছে দেশের সব শ্রেণীর মানুষকে। যার ধারাবাহিকতায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। কিন্তু তার ক্ষতিকর ও রুচিহীন কন্টেন্ট গুলোর কি হবে? মূলত বিটিআরসিকে হাইকোর্টের সাফ নির্দেশনা মুরাদের সব অশ্লিল কন্টেন্ট সরিয়ে নিতে হবে।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান জানান, নির্দেশনার লিখিত কপির জন্য তারা অপেক্ষা করেননি। খবর জানার পরপরই সংস্থাটি বসে যায় তাদের ডিজিটাল সিকিউরিটি টিম নিয়ে। সেই টিম ঘণ্টার পর ঘণ্টা পর্যবেক্ষন করে মুরাদের অশ্লিল ও আপত্তিকর মন্তব্যের প্রায় ৩৮৭ টি লিংক খুঁজে পায়। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায় ফেসবুকের কাছে। দুই দিনের মধ্যে ১৭টি কন্টেন্ট সরিয়ে নেয় ফেসবুক।
ফেসবুকের সাথে আলোচনা:
একটি সময়ছিল যখন বাংলাদেশ নিয়ে ফেসবুক কিংবা ফেসবুক নিয়ে বাংলাদেশের কোনো মাথা ব্যাথা ছিলনা। কিন্ত সময়ের সাথে সাথে বোঝাপড়ার প্রয়োজন পড়ে। গেল একযুগে ফেসবুক ভারতে দুটি এবং সিঙ্গাপুরে একটি অফিস দিয়েছে। অথচ বাংলাদেশে তাদের অফিস তো দূরের কথা, এ নিয়ে কোনো পরিকল্পনাও স্পষ্ট করেনি ফেসবুক। কেন?
জবাবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান জানান, চেষ্টা চলছে। এখন প্রতি তিনমাসে অন্তত একটি মিটিং হচ্ছে ফেসবুকের সাথে। এই আলোচনায় বিভিন্নভাবে বাংলাদেশ ফেসবুকের সাথে যোগাযোগ করেছে।
এসময় বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ দাবী করেন, কুমিল্লা, রংপুরের ঘটনাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ২৬৮টি আপত্তিকর লিংক ফেসবুককে সরিয়ে নিতে বলেছে বিটিআরসি। যার ৯৪টি এরইমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ১৭৪টি লিংক বিশ্লেষণ করছে ফেসবুক।
কি জানাবেন অভিযোগ?
প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কেউ সামাজিক মাধ্যমে আক্রমণের শিকার হলে তার বেশ কিছু সমাধান আছে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে সামাজিক মাধ্যমে কেউ আক্রমণের শিকার হলে তিনি কি করবেন?
বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানান, ভিকটিম প্রথমে ল-ইনফোর্সমেন্টের স্বাভাবিক আশ্রয় নেবেন। এই স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ায় নালিশ জানিয়ে একটি চিঠি নিয়ে বিটিআরসিতে আসতে হবে।
বিটিআরসির অনুরোধ:
কল ব্লক, মোবাইল ইন্টারনেট ডাটা ফেরত না পাওয়াসহ টেলিকমখাত সংশ্লিষ্ট নানান সেবা থেকে যখন কোনো গ্রাহক বঞ্চিত হন, মামলা করার ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতে তাদের অনেকে বিটিআরসিকে দায়ী করে অভিযোগ জানান।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান এসময় অনুরোধ জানান, বিটিআরসিকে আসামি না করতে। কারণ সেবা দেওয়ার ঘাটতি বা অব্যবস্থাপনার দায় সেবা দাতা প্রতিষ্ঠানের। কাজেই দায় তাদের। বিটিআরসির কাজ কেবল নিয়ন্ত্রণ বা রেগুলেট করা।
একাত্তর/আরবিএস
