কলাবাগানে খেলার মাঠ রক্ষার আন্দোলন করায় এক মা ও তার ছেলেকে থানায় ১২ ঘন্টা আটক রাখার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করলেই তাকে জেলে নেয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়িস্থ তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা জানান তিনি। ফখরুল বলেন, বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, রিসার্চ সেন্টার ও বিভিন্ন দেশ আওয়ামী লীগ এবং এ সরকারকে স্বৈরাচারী দল হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পুরোপুরিভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে আমলাদের ওপরে। শুধু তাই নয়, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরেও নির্ভরশীল। আওয়ামী লীগ যখন গণতন্ত্রের কথা বলে, তখন আমাদের কাছে হাস্যকর মনে হয়। জনগণও হাস্যকর মনে করে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকারের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করলেই তাকে জেলে নেওয়া হয়। এর প্রমাণ কলাবাগানের মা ও ছেলে। এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, এই সরকার কতটা স্বৈরাচার। মানুষ নিজেরাই টের পাচ্ছে যে তারা একটি ফ্যাসিবাদ সরকারের আওতায় রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর এই সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের প্রশ্রয়ে এখন মানুষের মানবাধিকারগুলো লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং আইনের শাসন বলতে দেশে কিছু নেই। এটার প্রমাণ হচ্ছে ঢাকা কলেজ ও নিউ মার্কেটের হামলা।
তিনি আরো যোগ করেন, পত্রপত্রিকায় আসলো হামলায় জড়িত আওয়ামী লীগ, আর মামলা হলো বিএনপি নেতাদের নামে। তিন দিনের রিমান্ডেও নেয়া হল। এটাই হচ্ছে প্রশাসনকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে, বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা।
সরকারের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, সাতশ’র বেশি ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা দিয়েছেন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে। গত তিন মাসে ৪০ জনের বেশি সাংবাদিককে হত্যা করেছেন আপনারা। আর কত? আপনারা দয়া করে সংবাদকর্মীদের ওপর আর চড়াও হবেন না।
আওয়ামী লীগ সরকারকে বর্গীদের সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে চলছে দেশ। এখনো মানুষ তার মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও দেশ ও দেশের মানুষ আজ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নেই, পরাধীনতার শেকলেই বন্দী রয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, দপ্তর সম্পাদক মামুন উর রশীদ, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদসহ বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
একাত্তর/এআর
