দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বরিশাল ৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বরিশাল জেলা শাখা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পঙ্কজ নাথকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে এ বিষয়ে তার লিখিত বক্তব্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিতে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত অব্যাহতির চিঠিতে বলা হয়েছে।
পঙ্কজ নাথ গত ১১ সেপ্টেম্বর শনিবার পাঠানো ওই চিঠি পেয়েছেন জানিয়ে বলেন, ‘আমাকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এই চিঠি আমি পেয়েছি।’
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুসও পঙ্কজ নাথকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানান।
রোববার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বরিশালের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
পঙ্কজ নাথকে পাঠানো অব্যাহতিপত্রে বলা হয়, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আপনাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বরিশাল জেলা শাখার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যপদসহ দলীয় অন্যান্য সকল পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।
পঙ্কজ নাথ বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। এর বাইরে তিনি দলীয় অন্য কোন পদে ছিলেন না বলে আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন।
নাম না প্রকাশের শর্তে আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগে গ্রুপিং তৈরি করা, বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করা, নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির মতো অভিযোগ উঠেছিল পঙ্কজ নাথের বিরুদ্ধে।
বিশেষ করে হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জে পঙ্কজ নাথের প্রশ্রয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে একাধিক গ্রুপ তৈরি হয়েছিল। সেসব গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের অভিযোগ রয়েছে। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এসব সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটে।
এমনকি সর্বশেষ গত ২৮ অগাস্ট মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের একটি একপক্ষকে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে মারধর ও জখম করে। হামলাকারীরা পঙ্কজ নাথের অনুসারী বলে অভিযোগ রয়েছে। নেতাকর্মীদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছিল।
তবে অব্যাহতি দেয়া হলেও পঙ্কজ নাথের সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকবে। কারণ আইন অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কার করা না হলে অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট না দিলে সংসদ সদস্যপদ খারিজ হয় না।
আরও পড়ুন: সাজেদা চৌধুরী ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বস্ত সহকর্মী: কাদের
আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকার সময় পঙ্কজ নাথ ২০১৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১২ সাল থেকে তিনি ওই পদে ছিলেন।
কিন্তু কাসিনো বিরোধী অভিযান শুরুর পর ২০১৯ সালের ৩১শে অক্টোবর তাকে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। এমনকি তাকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বা সম্মেলনের কাজ থেকেও বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়।
একাত্তর/আরএ
