ডেঙ্গু
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ‘ব্যর্থ’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি
এম কাদের।
রোববার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘ভয়াবহ রূপ নিয়েছে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি। প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও মৃতের সংখ্যা। সরকারি হিসাবেই ৫ আগস্টপর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৬৩ হাজার ৯৬৮ জন। আর মারা গেছেন ইতিহাসের সব চেয়ে বেশি ৩০৩ জন। এরমধ্যে ২৪১ জনই রাজধানীর বাসিন্দা। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরও বেশি। সরকার ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ।’
বিবৃতিতে সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা কাদের আরও বলেন, ‘দুই সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতায় ডেঙ্গু সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। যাদের ব্যর্থতায় সারাদেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সারাদেশের সকল হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থতার দায় সরকার এড়াতে পারে না।’
চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে পাঁচ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬৩ হাজার ৯৬৮ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৩৪ হাজার ৫২৩ জন। ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ২৯ হাজার ৪৪৫ জন।
বর্তমানে ঢাকায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা চার হাজার ৬৮০ এবং ঢাকার বাইরে চার হাজার ৬৫৪ জন।
একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৩৩১ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ২৯ হাজার ৬০২ জন এবং ঢাকার বাইরের ২৪ হাজার ৭২৯ জন।
ডেঙ্গু থেকে হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার হার ৮৫ শতাংশ, ভর্তির হার ১৫ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ।
২০২২ সালে ডেঙ্গুতে দেশে ২৮১ জন মারা যান। ওই বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন।
গত ৩০ জুলাই একদিনে দুই হাজার ৭৩১ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, যা একদিনে এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গু সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারাদেশে এডিস মশাবাহী এই রোগে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিলো।
বিবৃতিতে জি এম কাদের বলেন, হাসপাতালে বেড খালি নেই, বারান্দা, করিডোর এবং সিঁড়ির নিচেও ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। হাসপাতালে পা ফেলার জায়গা নেই। পর্যাপ্ত জনবল ও সরকারি সহায়তার অভাবে চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।’
একাত্তর/কেএসএইচ
