দেশি-বিদেশি শক্তি দিয়ে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আরও বলেছেন, নির্দলীয় সরকারের ব্যবস্থা আওয়ামীগ লীগ উল্টে দিয়েছে।
বুধবার ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ী মির্জা রুহুল আমীন পৌর মিলনায়তনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশকে বর্তমানে তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করে ক্ষমতা দখল করে আছে। এ সরকারের অধীনে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন আশা করা যায় না। আওয়ামী লীগের দাপটে বর্তমানে কথা বলা যায় না। দেশ ও আন্তর্জাতিভাবে সব শক্তি দিয়ে সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করতে হবে।’
দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অবিলম্বে বেগম জিয়ার মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় জনগণ আর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় থাকতে দেবে না। বিএনপির আন্দোলন জীবন মরণের আন্দোলন। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সরকারকে বাধ্য করবো পদত্যাগ করতে।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘একটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে তখন, যখন নির্বাচনের আগে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়া হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার এটাকে উল্টে দিয়ে নিজেরাই নির্বাচন করছে।’
এখন সরকারি চাকরি করতে হলে আওয়ামী লীগের কর্মী হতে হয় অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকার সবখানে দলীয়করণ করেছে। এখনকার ডিসি-এসপি ও পুলিশের কথা যদি আপনি শোনেন, আমরা তো গত কয়েক বছর ধরে শুনছি, তারা আওয়ামী লীগের বাবা।’
ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দিয়ে মুখ বন্ধ করে রেখেছে। মানুষ এখন নিরাপদে থাকতে পারে না। কোন ঘটনা ঘটলে, কোন কিছু হলেই সেটা নাকি বিএনপি করেছে এভাবে তারা নিজেদের দোষ আমাদের কাঁধে চাপাচ্ছে।’
বিএনপির আমলে দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতি ছিলো না উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমাদের সময়ে বিদ্যুতের দাম ছিলো প্রায় তিন টাকা। এখন সাত টাকা। চালের দাম ছিলো ১৪ টাকা এখন প্রায় ৭০ টাকা। এভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম যেভাবে সরকার বাড়াচ্ছে জনগণ আজ চিন্তিত। আজকে ডাক্তার আছে চিকিৎসার ব্যবস্থা নাই। অ্যাম্বুলেন্স আছে তেল নাই। ছাত্র-ছাত্রী আছে কিন্তু সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থা নাই। সরকার প্রতিটি খাতে লুটপাট করে খাচ্ছে। উন্নয়নের নামে তারা চুরি করছে।’
ফখরুল বলেন, ‘আমাদের সাহস নিয়ে দাঁড়াতে হবে। বসে থাকার মতো চুপ করে থাকার মতো আর সময় নাই। রুখে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। সবকিছু দিয়ে এই সরকারকে নামাতে হবে, তা না হলে দেশ রসাতলে যেতে আর বেশি দেরি লাগবে না। জনগন যাকে চায় তাকে রাষ্ট্রীয় কাজে থাকার সুযোগ দেয়া হোক।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামীলীগের এমপির বিরুদ্ধে কোনোদিন কোনো কথা বলিনি, আমার রুচিতে বাধে। পত্র-পত্রিকায় দেখতে পাই এবং অভিযোগ শুনি, বর্তমান এমপি সাহেব স্কুলের নিয়োগে আগেই গিয়ে ইন্টারভিউ বোর্ডে গিয়ে বসে থাকেন। আর হাসপাতালের টেন্ডার বাক্স নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে চীন নাক গলাবে না: রাষ্ট্রদূত
মির্জা ফখরুল ফখরুল বলেন আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতারা হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে বিদেশে বেগম পাড়া, মালয়েশিয়া, ইংল্যান্ড, আমেরিকায় বাড়ি করছেন। তারা তো একবারও বলেন না, আওয়ামীলীগের এই নেতারা ব্যাংকে টাকার পাহাড় গড়েছে। আপনাদের দূরে যাওয়ার দরকার নেই, ঠাকুরগাঁওতে দেখেন ১৪-১৫ বছর আগে আওয়ামী লীগের যারা নেতা, সকলের কথা বলি না। বড় বড় নেতা যারা আছে তাদের কী ছিল সম্পদ? আর এখন কী হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, বিএনপি নেতা পয়গাম আলী, শরিফুল ইসলাম শরিফ, মামুনুর রশীদ, আব্দুল হামিসহ অন্যরা।
একাত্তর/কেএসএইচ
