নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন ঘিরে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের রয়েছে আলাদা আবেগ। বিশেষ করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা দাবি করে থাকেন, এটিই তাদের দলের জন্মস্থান। আর তাই আওয়ামী লীগ গঠনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই আসনটিতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী চান নেতাকর্মীরা।
নৌকার প্রার্থী না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এই শহরে কাংখিত উন্নতি হয়নি বলে তাদের মত। যদিও গেল তিনবার এই আসনে জয়ী জাতীয় পার্টির নেতারা বলছেন, তারাই একক প্রার্থী হবেন। আর বিএনপি চায় এই আসন পুনরুদ্ধার করতে। আর ভোটাররা চান, যানজট থেকে মুক্তি ও শীতলক্ষ্যার দুইপাড়ের মিলন সেতু।
শীতলক্ষ্যার তীরে গড়ে ওঠা নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের প্রধান নদীবন্দর। এককালে এই নদীবন্দরই ছিল ঢাকায় প্রবেশর প্রধান দুয়ার। নদীর একপাড়ে নারায়ণগঞ্জের মূল শহর। অন্যপাড়ে বন্দর। এই দুই এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন। দীর্ঘদিন দুই পাড়ের মানুষের দাবি একটি সেতুর, কিন্তু আজও তা পুরণ হয়নি।
ঢাকার সবচেয়ে কাছের এবং রপ্তানিমুখি কারখানা হওয়ায় গেলো একদশকে নারায়ণগঞ্জে মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু মাত্র একটি সড়ককে কেন্দ্র করে মূল শহর। হকার আর ব্যাটারিচালিত যান আর যত্রতত্র বাস স্ট্যান্ডের চাপে সেই সড়ক দিনের বেশিরভাগ সময় থাকে যানজটে অচল হয়ে থাকে।
১৯৮৪ সালের ১৫ মে নারায়ণগঞ্জ শহরের মিউচ্যুয়াল ক্লাবে আওয়ামী লীগ গঠনের প্রস্তুতি সভা হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে সেই তথ্য আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের জন্মের সাথে জড়িত এই শহরে গেল তিনি দফায় নেই নৌকার কোনো প্রার্থী। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয় এই আসনটি।
এতে হতাশ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা এ আসনে দলের কাউকে নৌকা প্রতীক তুলে দেওয়ার দাবি জানালেও ছাড় দিতে নারাজ জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে কাজ করছে।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এসএম আকরাম এমপি হন। ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ পুনরায় নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে মহাজোটের শরিককে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হলে জাতীয় পার্টির নেতা এ কে এম নাসিম ওসমান বিজয়ী হন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে পুনরায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী নাসিম ওসমান বিজয়ী হন।
কিছুদিন পর এ কে এম নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর তার ছোট ভাই বিকেএমইএর সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালেও নির্বাচিত হন তিনি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তিনি।
বিগত সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে এ আসনটি ছাড় দেওয়া হলেও এবার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টিকে আর ছাড় দিতে নারাজ। তাই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জোরেশোরেই শহর ও বন্দর এলাকায় গিয়ে সভা-সমাবেশে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
এ আসনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হাই, আবু হাসনাত শহিদ মো. বাদল (ভিপি বাদল), মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দীপু।
এই আসনে দুইবার বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন আবুল কালাম। গেল নির্বাচনে এই আসনটি ছেড়ে দেয়া হয় জোটের শরিক ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এস এম আকরামকে। বর্তমানে এই দুজনই শারিরীকভাবে অসুস্থ। তাই এই আসনে মনোনয়ন চান বেশ কয়েকবার নির্বাচিত হওয়া কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার। দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরও আছেন, মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি শহর ও বন্দর উপজেলা এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছে। এ আসনটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১১নং ওয়ার্ড থেকে ২৭নং ওয়ার্ড এলাকা ও বন্দর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা পড়েছে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৩ হাজার ১৬৫ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৩৯ হাজার ৩৪৪ জন ও নারী ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৩৩ হাজার ৮২০ জন।
