দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের শুরুতেই রোববার সকাল ৮টার দিকে ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের টানা চতুর্থবারের মতো জয়ের বিষয়ে আশাবাদী তিনি।
ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করতে পারছি সে জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছি। আমাদের সামনে আরও কাজ আছে। নৌকা মার্কার জয় লাভ করবে ইনশাল্লাহ। আবার আমরা সরকার গঠন করে দেশের উন্নতি করতে পারবো।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জ্বালাও-পোড়াও করে, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। বিএনপি একটা সন্ত্রাসী দল, তারা বাসে, ট্রেনে, ভোটকেন্দ্রে আগুন দেয়। সে কারণে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।
আপনার সবাই ভোটকেন্দ্রে আসবেন, এই ভোটের জন্য আমাকে জেল-জুলুম সহ্য করতে হয়েছে। নির্বাচনটা যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা ও কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।
রোববার ভোটের শুরুতেই সকাল আটটায় নিজের ভোট দেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সিটি কলেজের ভোট কেন্দ্রে আসেন আটটার কিছু আগে। সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা, কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক। সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন পুতুলও।
শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হলফনামায় তার বাসার ঠিকানা ধানমন্ডি ৫ নম্বর সড়কের সুধা সদন।
প্রধানমন্ত্রী ভোট কেন্দ্র ঢাকা-১০ আসনের অন্তর্ভুক্ত। এই আসনে নৌকার প্রার্থী অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ। এর আগেও ঢাকা সিটি কলেজের কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা।
দেশের ২৯৯ টি আসনে সকাল আটটায় শুরু হয় ভোট উৎসব। বিরতিহীন ভোট গ্রহণ চলবে বিকাল চারটা পর্যন্ত। প্রায় ১২ কোটি ভোটার নিজেদের রায়ে বেছে নেবেন নিজে নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধিদের।
নওগাঁ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম মারা যাওয়ায় ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে ইসি। ফলে ৩শ’ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট হবে।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এবারই প্রথমবারের মতো ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। শুধু দুর্গম অঞ্চলের দুই হাজার ৯৬৪টি কেন্দ্রে ব্যালট পাঠানো হয়েছে ভোটের আগের দিন।
সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য স্থাপনায় মোট ৪২ হাজার ২৪টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৯১২টি।
ভোটের নিরাপত্তা রক্ষায় মাঠ পর্যায়ে পুলিশ, র্যাব, আনসার-ভিডিপি, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৮ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকায় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে মোটরসাইকেল এবং শনিবার মধ্যরাত থেকে আরো কিছু যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া ভোট গ্রহণের কাজে ৮ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়াও স্ট্যান্ডবাই থাকবেন এক লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী। তিন হাজার ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারক মাঠে থাকছেন। তারা যে কোনো অপরাধে তাৎক্ষণিক শাস্তি দিতে পারবেন।
এবার ভোটে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে ৬৬ জন দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে দুইজন বিভাগীয় কমিশনার এবং ৬৪ জন জেলা প্রশাসক।
ভোট উৎসব শুরু