১৪ দলের শরিকদের ছয়টি আসনে ছাড় দিয়েছিলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। যেসব আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছিলো তার মধ্যে কেবল রাশেদ খান মেনন আর রেজাউল করিম তানসেন জিততে পেরেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র এবং অসাম্প্রদায়িক আদর্শের ভিত্তিতে ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত হয় ১৪ দলীয় জোট। মূলত ওই বছরের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালিয়ে অনেক নেতাকর্মীকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল দলগুলোকে নিয়ে ২৩ দফা ঘোষণা দিয়ে ১৪ দলীয় জোটের যাত্রা শুরু হয়।
২০০৮ সাল থেকে গত তিনটি সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে ভোটে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ। গত নির্বাচনেও জোটসঙ্গীদের ১৩ আসন ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। জোটের অন্যান্য দলের সিংহভাগ প্রার্থীই আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-২ আসনে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে নৌকা দেওয়া হয়। দলটির আরো দুইজনতে আওয়ামী লীগ ছাড় দেয়। তাদের মধ্যে রেজাউল করিম তানসেন বগুড়া-৪ আসনে নৌকা প্রতীকে জয়ী হয়েছে। আর জাসদ নেতা মোশাররফ হোসেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে নৌকা নিয়ে ভোট করেও জিততে পারেননি।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন গত তিনবার ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচন করেছে সংসদে গেছেন। এবার আওয়ামী লীগ তাকে ছাড় দেয় বরিশাল-২ আসনে। সেখানে প্রায় ৯০ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি জয়ী হয়েছেন। তবে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা আগের মতই রাজশাহী-২ আসনে নৌকা নিয়ে ভোট করেও হেরেছেন।
এর বাইরে জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পিরোজপুর-২ আসন ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। এবার তাকে হারতে হয়েছে।
গত নির্বাচনে ১৪ দলের শরিকদের ১৩টি আসনে ছাড় দেয় আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ১১জন প্রার্থী ভোট করে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কায়, জাতীয় পার্টি (জেপি) দুইজন প্রার্থী তাদের দলীয় প্রতীক বাইসাইকেল নিয়ে ভোটে অংশ নেয়।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫টি আসন পায় ওয়ার্কার্স পার্টি। আসনগুলো ছিল ঢাকা-৮, রাজশাহী-২, বরিশাল-৩, ঠাকুরগাঁও-৩ ও সাতক্ষীরা-১। এর মধ্যে ঢাকা, রাজশাহী ও সাতক্ষীরায় জয় পায় দলটি।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ পায় তিনটি আসন। এগুলো হলো কুষ্টিয়া-২, ফেনী-১ ও বগুড়া-৪। দলটির দুই নেতা জয় পায় কুষ্টিয়া ও ফেনীতে।
তরীকত ফেডারেশন পায় লক্ষ্মীপুর-১ ও চট্টগ্রাম-২ আসন। দলটির প্রার্থী জয় পান চট্টগ্রামে। জাতীয় পার্টি (জেপি) পায় কুড়িগ্রাম-৪ ও পিরোজপুর-২ আসন। এর মধ্যে জয় পায় পিরোজপুরে।
বাংলাদেশ জাসদ পায় চট্টগ্রাম-৮ আসন। সেই আসনে বিজয়ী প্রার্থী মইন উদ্দীন খান বাদল ২০২০ সালে মারা গেলে আওয়ামী লীগের নেতা মোসলেম উদ্দিন আহমেদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তারও মৃত্যু হয় ২০২৩ সালে। গত ২৭ এপ্রিল আবার উপনির্বাচন হলে জয় পান আওয়ামী লীগের নোমান আল মাহমুদ।
২৬ থেকে নেমে ১১ তে জাতীয় পার্টি
যাদের নৌকা ডুবলো