ফুসফুসের পানি অপসারণসহ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে নেয়া হয় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। এরপর ফুসফুসের পানি অপসারণ, এক্সরে, ইসিজি, আল্ট্রসনোগ্রামসহ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়।
প্রাথমিকভাবে পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে মেডিকেল বোর্ড তাকে বাসায় যাওয়ার পরামর্শ দেয়। এরপর রাতেই হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
মধ্যরাতে খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়া হলে তিনি আরও সুস্থ হয়ে উঠবেন।
সন্ধ্যা সাতটার দিকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান খালেদা জিয়া। সেখানে স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত সোয়া ১২টায় গুলশানের বাসায় ফেরেন তিনি।
ডা. জাহিদ জানান, হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে খালেদা জিয়ার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এরপর মেডিকেল বোর্ড চিকিৎসাপত্র দিলে বোর্ডের সিদ্ধান্তে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে।
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া হার্টের সমস্যা ও লিভার সিরোসিস ছাড়াও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এছাড়া আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতা রয়েছে তার। এরই মধ্যে কয়েক দফা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি।
২০২২ সালের জুনে খালেদা জিয়ার এনজিওগ্রাম করা হলে তার হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর একটিতে রিং পরানো হয়। এরপর থেকে কয়েক দফায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি।
দুর্নীতির মামলায় দণ্ড পাওয়া খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে ছিলেন। ২০২০ সালের মার্চে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার খালেদা জিয়ার দণ্ড ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়। এরপর দফায় দফায় তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।
বিকেলে হাসপাতালে নেওয়া হবে খালেদা জিয়াকে