এবার দুদকের জালে আটকা পড়লেন এক সময়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে হাজার হাজার কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য পরিচালনা করতেন তিনি। এর মাধ্যমে তেরশ’ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
শেখ পরিবারের প্রভাব কাজে লাগিয়ে গত ১৫ বছরে উন্নয়ন কাজে নিয়মিত কমিশন বাণিজ্য করে গেছেন তিনি। সুনির্দিষ্ট একটি অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত রাষ্ট্রের সবোর্চ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করতো শেখ পরিবারের সদস্যরা। তাদের অন্যতম শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিম। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ আওয়ামী শাসনামলে ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ২০০৮ সাল মন্ত্রিত্ব না পেলেও ছিলেন সবোর্চ্চ ক্ষমতার কেন্দ্রে।
পট পরিবর্তনের পর টেন্ডার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ আসে শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে। ১৫ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে নিজের পছন্দের ঠিকাদারের মধ্যে ১,৩০০ কোটি টাকার কাজ বন্টন করেন শেখ সেলিম।
৫ আগস্ট ভাংচুরের পর শেখ সেলিমের বনানীর বাড়িটি থেকে উদ্ধার করা হয়, গোপালগঞ্জের ১২টি, খুলনায় ৩টি, রাজশাহীতে-২, নাটোর, চুয়াডাঙ্গায়, টাঙ্গাইল,হবিগঞ্জ, ফরিদপুর,ময়মনসিংহ ১টি করে প্রকল্পের কাগজপত্র। ছিলো কাজ পাওয়া ঠিকাদারদের নাম। ছিলো কোন কাজে কতো কমিশন পাবেন তারও তথ্য।
রোববার, রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদক কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক মো. আখতার হোসেন এক ব্রিফিংয়ে বলেন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার কমিশন সিন্ডিকেট চালাতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মন্ত্রী না থাকা সত্ত্বেও গত ১৫ বছর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কমিশন পেতে তিনি শেখ পরিবারের প্রভাবকে কাজে লাগিয়েছেন।
আখতার হোসেন জানান, এক হাজার ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ঠিকাদারের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে শেখ সেলিম ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং কমিশনের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারদের ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজের আদেশ দিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।
গত ৫ আগস্টের পর শেখ সেলিম আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে। গত বছরের ২০ আগস্ট জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও তার পরিবারের মোট ৯১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টের তথ্য তলব করে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই শেখ সেলিম ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এসকে সুরের পরিবারের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করেছে দুদক। স্ত্রী-সন্তানসহ তার বিরুদ্ধে তিন মামলায় ১১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আরও মামলা হয়েছে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ছয় কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক।
‘এসপি আমাদের দিয়া ডাকাতি করায়, প্রমাণ করবে কে’