পিআর পদ্ধ‌তি‌তে নির্বাচনসহ ১৬ দা‌বি ইসলামী আন্দোলনের

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৫, ০৯:১১ পিএম

পিআর বা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনসহ ১৬ দফা দা‌বি জা‌নি‌য়ে‌ছে চরমোনাই পী‌রের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আ‌ন্দোলন।

শনিবার (২৮ জুন) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় মহাসমাবেশে দলটির আমির বলেন, ভুল নীতি ও অসুস্থ রাজনীতির কারণে আগের আত্নত্যাগ বিফলে গেছে। সমাবেশে এনসিপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কয়েকটি দল অংশ নেয়। নেতারা বলেন, কোনোভাবেই জুলাই অভ্যুত্থান বেহাত হতে দেয়া যাবে না। 

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান জনসমুদ্র। ইসলামী আন্দোলনের জাতীয় মহাসমাবেশে যোগ দেয় দলটির নেতাকর্মীরা। সংস্কার, বিচার ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে এবং দেশ ও ইসলামবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের প্রতিবাদে এই মহাসমাবেশ আয়োজন করেছে দলটি।

এতে একাত্মতা প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামীসহ ইসলামী ঘরানার প্রায় সব দলই।

অন্যতম প্রধান ইসলামি দল- জামায়াতে ইসলামী সমাবেশে বলে, সামনের দিনগুলোতে ইসলামী রাজনীতিতে ইস্পাত কঠিন ঐক্য আনতে হবে। একই সুর ছিলো অন্যদের কণ্ঠেও। 

এদিকে ২৪ এর অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থীদের দল এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, বিদ্যমান সংবিধান রেখ কোন সংস্কার কাজে আসবে না।  

মহাসমাবেশের ১৬ দফা ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। 

সভাপতির বক্তব্যে দলটির আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান নতুন বাংলাদেশ গড়ার মূলমন্ত্র। অতীতের আত্নত্যাগ ভুল নীতি ও অসুস্থ রাজনীতির কারণে বিফলে গেছে।

তিনি পিআর বা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি করেন।

মহাসমাবেশে হিন্দু মহাজোট, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান এসোসিয়েশনসহ অন্যান্য ধর্মের বেশ কয়েকটি সংগঠনও যোগ দেয়।

ইসলামী আ‌ন্দোলনের ঘোষিত ১৬ দফা দাবিগুলো হলো:

১. সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের সাথে “আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতি” এ বিষয়টি অবশ্যই পূনঃস্থাপন করতে হবে। কারণ বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্বের জন্য ইসলাম হলো রক্ষাকবচ। তার প্রতিফলন সংবিধানের মূলনীতিতে থাকতে হবে।

২. সংসদের প্রস্তাবিত উভয়কক্ষে সংখ্যানুপাতিক পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে।

৩. জুলাই’২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে বৈষম্যহীন শোষণ নিপীড়ন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতীয় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে জুলাই সনদ ঘোষণা করতে হবে।

৪. আগামী দিনে বাংলাদেশে যাতে কোন নির্বাচিত স্বৈরাচার, দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও সন্ত্রাসী শ্রেণি রাষ্ট্রক্ষমতাকে ব্যবহার করে জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংস করতে না পারে এবং একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক রাষ্ট্রসংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

৫. সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অপরিহার্য। সেটা নিশ্চিত করার জন্য জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে হবে।

পতিত ফ্যাসিবাদের সহযোগী যারা এখনো জনপ্রশাসনে কাজ করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে দ্রুত অপসারণ করতে হবে। না হলে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করেই যাবে।

৬. পতিত ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এবং বিদেশে পালাতক অপরাধীদের আটক করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরো জোরদার করতে হবে।

৭. দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে সক্রিয়, কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

৮. দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও খুনখারাবি রোধে প্রশাসনকে আরো কার্যকর ও অবিচল হতে হবে।

৯. ভারতের সাথে কৃত সকল চুক্তি জনসন্মুখে প্রকাশ করতে হবে এবং সকল দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল করতে হবে।

১০. জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সকল পর্যায়ে স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। আগামীতেও জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সকল স্থানীয় নির্বাচনের বিধান প্রণয়ন করতে হবে।

১১. চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, ঋণখেলাপি ও সন্ত্রাসীদেরকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।

১২. জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে দেশে অবশ্যই একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সকল দলের জন্য সমতল পরিবেশ এবং সমান সুযোগ তৈরি ছাড়া কোন রাজনৈতিক পক্ষ বা ভিন্ন কোন দেশের চাপে অতীতের মতো যেন-তেন একটি নির্বাচনের জন্যে তফসিল ঘোষণা করা হলে তা কিছুতেই মেনে নেয়া হবে না। 

১৩. ঘুষ, দূর্নীতিসহ সকল প্রকার নাগরিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির বিরুদ্ধে শুধু রাজনৈতিক কারণে হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ করতে হবে। হয়রানিমূলক সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। দেশের কোথাও কোনো রকম মব সৃষ্টির সুযোগ দেয়া যাবে না। মব সৃষ্টিকারীদের দমনে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ইসলাম ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী যে কোন কার্যক্রমে দ্রুততম সময়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে গণবিক্ষোভ পুঞ্জীভূত না হয়।

১৪. দেশ বিরোধী ও ইসলাম বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মোকাবেলায় সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

১৫. আগামী জাতীয় নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক ও ইসলামী শক্তির ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

১৬. রাষ্ট্রের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা, জনগণের জান-মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা বিধান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষা, সর্বত্র শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নতি ও অগ্রগতির লক্ষ্যে রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে ইসলামের সুমহান আলোকিত আদর্শের অনুশীলন করতে হবে।

 

আরবিএস
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর প্রথমবারের মতো নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অফিস করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচন ও ফলাফলে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট পুনঃগণনার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি মনোনীত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যদি এদেশের কোনো সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে আসেন, তাহলে আমাদের ভাবতে হবে আমরা সে শপথ অনুষ্ঠানে যাব কি না, এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন...
পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ১৮টি আসন পাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দারুণ লড়াইয়ের পর এককভাবে পেয়েছে ৬৮টি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর