শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিলো এবং তৎকালীন সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ছিলো বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য তাকে আগামী ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই হাজিরার নির্দেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। শুনানি শেষে দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে মিলিটারি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন মোজাফফর হোসেন। ১/১১ থেকে শুরু করে গত পাঁচ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে দেশে সংঘটিত বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় আমরা ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করি। শুনানি শেষে আদালত আগামী ২৩ জুলাই তাকে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মোজাফফর হোসেন ‘জন্ডো’ (বা ঝন্ডু) ছদ্মনাম ব্যবহার করে দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন। প্রসিকিউশন থেকে জানা যায়, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও তার ব্যক্তিগত সহকারীর সঙ্গে ‘ঝন্ডু’ ছদ্মনামে মোজাফফরের গত ১৬ বছর ধরে একাধিকবার গোপন কথোপকথন হয়েছে।
এমনকি গত জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় যখন সারাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হচ্ছিলো, তখনও তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো। এই অপরাধমূলক যোগাযোগ ও ঘটনার পেছনের তথ্য উদ্ঘাটনে মোজাফফর হোসেন এবং মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী উভয়কেই মুখোমুখি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে ট্রাইব্যুনাল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রাথমিকভাবে তাকে ট্রাইব্যুনালের মিস কেসে গ্রেপ্তার দেখানো হবে এবং বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট কোন কোন মামলায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে তা নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ট্রাইব্যুনালের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিজিএফআই-এর ‘আইনঘর’ বা গোপন আস্তানা, র্যাব এবং গোয়েন্দা পুলিশের সংশ্লিষ্ট গোপন বন্দিশালাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন বিচারক।
অন্যদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর উত্তরায় মীর মুগ্ধসহ ১১ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগ গঠনের ওপর প্রসিকিউশনের শুনানি মঙ্গলবার সম্পন্ন হয়েছে। আদালত জানিয়েছেন, এ মামলায় আসামিপক্ষের পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই)।
