সারাদেশে সারের ডিলার নিয়োগে দলীয় বিবেচনা ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি অভিযোগ করেছে, বর্তমান সরকার জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না করে ‘ফ্যাসিস্ট’ কায়দায় হাঁটছে এবং বিরোধীদলকে বাদ দিয়ে সংবিধান সংস্কারের নামে আবারও ফ্যাসিবাদী কাঠামোতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন রাজনৈতিক ও জাতীয় বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সাংবাদিক সম্মেলনে সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়ম তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নীতিমালা ভঙ্গ করে দলীয় বিবেচনায় সারের ডিলার নিয়োগ দিয়েছে সরকার। দলীয় প্যাডে সই করে ডিলারদের তালিকা দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে তারাই ডিলারশিপ পেয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই ডিলারশিপ বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম দাবি করেছিলেন শুধু জামায়াতের এমপিদের আসনে সারের সঙ্কট রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে বিএনপির এমপিদের আসনেও যে তীব্র সারের সঙ্কট চলছে তা গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। সারের ডিলার নিয়োগে যেসব অভিযোগ এসেছে, তা নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সাথে ডিলারশিপ দেওয়ার মানদণ্ড জনসমক্ষে প্রকাশ ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানান জামায়াত নেতা।
সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস যেতে না যেতেই প্রশাসনে এমন নজিরবিহীন দলীয়করণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভবিষ্যতে দেশে কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি এ ধরনের দলীয়করণের বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান।
সংবিধান সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে তিনি বলেন, সরকার বিরোধীদলগুলোকে বাদ দিয়ে এককভাবে সংবিধান সংশোধন ও সংস্কারের চেষ্টা করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ না করে পুনরায় ফ্যাসিবাদী কাঠামো গড়ে তোলার এই প্রচেষ্টা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি স্বরূপ।
কুমিল্লায় জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে এ ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে জামায়াত জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। এই ঘটনার সঙ্গে যারা প্রকৃত অর্থে জড়িত, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
