বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে প্রধানত তিনটি ক্ষেত্রে বড়ো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাতের নাজুক পরিস্থিতি। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ও এসব চ্যালেঞ্জ সামলাতে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার পাশাপাশি নীতিগত পদক্ষেপগুলোর ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ ও ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কারের বার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ বার্তা দেন আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক সোনালি জৈন চন্দ্র।
সাংবাদিক সম্মেলনে আইএমএফ কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে আট শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে চলা এই মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় কেবল সংকোচনমূলক বা কঠোর মুদ্রানীতিই যথেষ্ট নয়। এটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জরুরি হলেও, পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং ভঙ্গুর ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সংস্কার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
বাংলাদেশের আর্থিক খাতের বর্তমান অবস্থাকে অত্যন্ত দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত করে আইএমএফ জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে খাতটির সক্ষমতা বাড়ানো এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য সরকারের গৃহীত যেকোনো নীতি বা সংস্কার কৌশল হতে হবে পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্বাসযোগ্য। কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার উদ্যোগ ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করা কঠিন হবে।
দেশের রাজস্ব আহরণের চিত্র তুলে ধরে আইএমএফ জানায়, বাংলাদেশে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ধারাবাহিকভাবে কমে বর্তমানে প্রায় সাত শতাংশে নেমে এসেছে, যা বৈশ্বিক বিচারে সর্বনিম্ন অনুপাতগুলোর একটি। আইএমএফের মতে, উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহ এবং ব্যাংক খাতকে শক্তিশালী করতে রাজস্ব বাড়াতে হবে। এ জন্য দরকার রাজস্ব ব্যবস্থায় জরুরি কাঠামোগত পরিবর্তন ও সমন্বিত উদ্যোগ।
এদিকে চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নতুন ঋণ কর্মসূচির অনুরোধ জানানোর পর জুলাইয়ে আইএমএফের এক প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। সোনালি জৈন চন্দ্র জানান, ঢাকার ওই আলোচনা আর্টিকেল ফোর পরামর্শে দেওয়া সুপারিশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিলো। বর্তমানে সরকারের সঙ্গে আইএমএফের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত।
