দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি বিরোধীদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপি'র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, একশ্রেণির ‘গুপ্তদের’ মধ্য দিয়েই দেশে পলাতক স্বৈরাচারী শক্তি পুনরায় অরাজকতা সৃষ্টি করে ফিরে আসার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে খোলাখুলিভাবে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কথা স্বীকার করেন এবং এর ফলে জনগণের সৃষ্ট দুর্ভোগের জন্য দল ও সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে কষ্ট পাচ্ছে, এই বাস্তবতা আমরা অস্বীকার করি না।
তবে শুধুমাত্র বিগত স্বৈরাচারী শাসন কিংবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া ব্যর্থতাকে দায়ী করে তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চান না বলে উল্লেখ করেন। এ ধরনের বৈশ্বিক ও দেশীয় সংকট কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন জনগণকে আর এ ধরনের জ্বালানি সমস্যায় পড়তে না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশ যখনই গভীর সংকটে নিপতিত হয়েছে, তখনই দায়িত্ব নিয়ে হাল ধরেছে বিএনপি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করেছিলেন এবং স্বৈরাচারী শাসনামলে বিএনপি সর্বদা রাজপথে থেকে সংগ্রাম করেছে, কোনো ‘গুপ্ত’ অবস্থায় ছিল না।
২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ওই আন্দোলনের প্রকৃত ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল দেশের আপামর জনগণ এবং বিএনপি জনগণকে সাথে নিয়েই সেই আন্দোলনকে সফল পরিণতির দিকে নিয়ে গেছে। সরকার গঠনের পর একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, জরাজীর্ণ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং একটি যুদ্ধকালীন সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে নিজস্ব সীমার মধ্যে থাকার আহ্বান জানান। অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের প্রচলিত আইনেই বলে দেয়া আছে কীভাবে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারী ও অরাজক পরিস্থিতি দমন করতে হয়। জনগণকে সাথে নিয়ে সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও সংকট মোকাবিলা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
