দীর্ঘদিন দেশের ক্রিকেট প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর, এবার গোটা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রধান হলেন নাজমুল হাসান পাপন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে রোববার সচিবালয়ে অফিসও শুরু করেছেন তিনি। প্রথম কর্মদিবসেই জানিয়েছেন তার পরিকল্পনার কথা, সেই সঙ্গে বিসিবির দায়িত্বও ছেড়ে দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন পাপন। বলেছেন, বিসিবি থেকে সরে আসা তার জন্য ভালো হবে।
রোববার সচিবালয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় পাপন বলেন, আমার ইচ্ছে হলো এখান (বিসিবি) থেকে বের হবো, যতো দ্রুত সম্ভব বের হয়ে আসতে চাই। তবে এমন কিছু করবো না যেটির কারণে দেশের ক্রিকেটের ক্ষতি হয়। এখন এটি ছেড়ে দেয়া ভালো। তবে তার এই পদে থাকতে আইনগত বাধা নেই।
তিনি বলেন, এখন আরও বড় দায়িত্ব পেয়েছি। সব খেলা এখন আমাকে সমানভাবে দেখতে হবে, মনোযোগী হতে হবে। সেজন্য বিসিবির সভাপতি হিসেবে সেখানে যে সময় দিতে হবে সে সময় দিতে পারবো না। তাই আমার সরে আসাই উচিত। আর সেটা যত তাড়াতাড়ি হয়, ততোই ভালো।
নতুন সভাপতি কে হবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে পাপন বলেন, এখানে তো একটি প্রক্রিয়া আছে। এর মধ্যে একটি হলো আমাদের যে মেয়াদ, সেটি সামনের বছর শেষ হবে। এই মেয়াদের পর যদি আমি না দাঁড়াই তাহলে তো শেষ। নতুন যারা আসবে তারা তাদের মতো বোর্ড ও সভাপতি বানাবে। এটি খুবই সহজ প্রক্রিয়া।
এ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, প্রথমে কাউকে কাউন্সিলর হতে হবে, তারপর তাকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। নির্বাচিতদের মধ্যে থেকেই বোর্ডে যারা থাকবেন তার নির্ধারণ করবেন কে সভাপতি হবে। এখানে সরকারের বা বাইরের কারও প্রভাব থাকবে না।
বিসিবিতে টানা থাকার বিষয়ে সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, দুই টার্ম সভাপতি হওয়ার পর আমি এবার কিন্তু সভাপতি হতে চাচ্ছিলাম না। এবারই যেহেতু চাইনি, পরে আবার হবো এবং কন্টিনিউ করার প্রশ্নই ওঠে না। আমি চাইনি, তারপরও হতে হয়েছে বা হয়েছি।
প্রথম কর্মদিবসে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে পরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে যান পাপন। সেখানে নবনির্বাচিত মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রায় ৫৪টি ফেডারেশনের কর্তাব্যক্তিরা। ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে ফেডারেশনের কর্তাসহ সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেন ক্রীড়াঙ্গনের নতুন অভিভাবক।
সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমাকে প্রথমে সবগুলো ফেডারেশনের সঙ্গে আলাদাভাবে বসতে হবে। তাদের কথা শুনতে হবে। সব খেলা তো আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাবে না। এমন অনেকগুলো ফেডারেশন আছে, যারা ইতোমধ্যে ভালো। তবে যাদের আর্থিক সমস্যা আছে, তারা আমার সঙ্গে বসে আমাকে একটা লক্ষ্য দেবে, বাজেট দেবে। আমি তিন বছর সময় দিবো যেন তাদের অগ্রগতি দেখতে পাই।
বলেছেন, তারা আমাকে পাঁচ-সাত-দশ বছরের লক্ষ্যমাত্রা দিতেই পারে। তাই বলে আমি এত সময় দেওয়ার পক্ষে না। তিন বছর পর যদি দেখি তারা ভালো করছে, লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তাহলে সামনের দিকে ভাববো। লক্ষ্যপূরণ করতে না পারলেও যে অর্থ দেওয়া বন্ধ হবে তেমনটি নয়।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সাধারণত স্টেডিয়ামের অবকাঠামো নির্মাণে ব্যস্ত থাকে। নতুন চেয়ারম্যান স্টেডিয়াম নির্মাণের চেয়ে মাঠকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, স্টেডিয়াম তো রয়েছে। কিন্তু মাঠ কোথায়? মাঠ না থাকলে মানুষ খেলবে কোথায়? তাই আমার কাছে মাঠই বেশি প্রয়োজন।
চোখের চিকিৎসা করাতে লন্ডন যাচ্ছেন সাকিব