উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ চলতি সিজনের কোয়ার্টার ফাইনালসের মহারণ শুরু হচ্ছে আজ থেকে। রাতের বিগ ক্ল্যাশে রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে নামছে ম্যানচেস্টার সিটি। একই সময় আর্সেনালের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের মোকাবেলায় নামবে জার্মান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ।
কিছু স্মৃতি ভুলে যাওয়াই ভালো, কিছু গল্প মুছে ফেলতে পারলেই যেন মেলে স্বস্তি। তেমনি সিটির সাথে আগের দেখা হওয়ার গল্পও নিশ্চয় ভুলে যেতে চাইবে রিয়াল মাদ্রিদ। গেল মে মাসে নিজেদের মাঠে লস ব্ল্যাঙ্কোদের ডেকে এনে ৪-০ গোলে বিদ্ধস্ত করে সিটিজেনরা। সেমিফাইনালে দুই লেগে ৫-১ আগ্রেগেটে পরের রাউন্ডে মুভ করে গেল সিজনের ট্রেবলজয়ীরা।
তবে রিয়াল এমন একটা দল যাদের সব সময় অমন বলে-কয়ে হেসে-খেলে হারানো যায় না। কথাটা বলছেন সিটি বস পেপ গার্দিওলা।
সিটির হেডকোচ পেপ গার্দিওলা বলেন, রিয়ালকে প্রতিবার অমন করে হারানো অসম্ভব। কারণ তারা প্রতিনিয়ত শিখতে জানে। একই ম্যাচে ভিন্ন ধরনের গেমপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে পারে। হঠাৎ করেই আক্রমণাত্বক হয় এবং হাই প্রেস করতে শুরু করে। তাদের এই বৈশিষ্ট বেশ বিপদজনক, সেটা সবাই জানে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট স্টেজে এ নিয়ে টানা তিনবার দেখা হচ্ছে রিয়াল-সিটির। এই লড়াইয়ে সিটিজেনদের এগিয়ে না রেখে উপায় নেই। কারণ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন্স দলটা টানা দশ ইউসিএল ম্যাচ জিতেছে। তাদের আগে এমন ধারাবাহিকতার নজির আছে কেবল বায়ার্ন মিউনিখের। ওদিকে রিয়াল মাদ্রিদ ইংলিশ জায়ান্ট দলটার বিপক্ষে শেষ ছয় ইউসিএল ক্ল্যাশে জিততে পেরেছে মাত্র একবার। দশ ম্যাচে হজম করেছে ১৭ গোল।
সিটি ভার্সের রিয়াল লড়াইটা দুই ম্যানেজারের ক্ষেত্রেও সুপার রাইভালরি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ ১১৩ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড কার্লো আনচেলোত্তির খাতায়। গার্দিওলা মাত্র চার জয় পেছনে।
সিটির সাথে রিয়ালের যে পার্থক্য, বায়ার্নের সাথে আর্সেনালের তার চেয়ে ঢের বেশি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এই দুদলের শেষ তিন ম্যাচের স্কোরলাইন রীতিমতো মিরাকল। কি হোম, কি অ্যাওয়ে, প্রতিবারই গানাররা হেরেছে বরাবর ৫-১ গোলে।
পরিসংখ্যানের সব পাতাই বায়ার্নের পক্ষে। ইউসিলের নকআউট স্টেজে এর আগে তাদের সাথে আর্সেনালের চারবার দেখা হয়েছে। বাভারিয়ানরা জিতেছে প্রতিবারই। ওদিকে এই আসরে আর্সেনালের সবশেষ সর্বোচ্চ সাফল্য ২০০৬ সালের ফাইনাল খেলা।
তবে বায়ার্ন বস থমাস টুখেল মনে করিয়ে দিয়েছেন, ইনফর্ম আর্সেনাল হতে পারে বিপদের কারণ। লিগে তারা আছে টপ পজিশনে। ওদিকে বায়ার্ন এবারের বুন্ডেসলিগায় বায়ারলেভারকুসেনের কাছে ১৬ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে বসে আছে টপ পজিশনটা।
বায়ার্ন কোচ থমাস টুখেল বলেন, আর্সেনাল এখন প্রিমিয়ার লিগের সেরা দল। পরিসংখ্যান তাই বলে। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ব্যাপারটা আলাদা। আমরা জানি তাদের দুর্বলতা, সেই অনুযায়ি ম্যাচে আঘাত করতে চাই।
মঙ্গলবারের ম্যাচে আর্সেনাল নিশ্চয় আলাদা ট্যাকটিক্স সাজাবে বায়ার্ন স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে ঘিরে। গানারদের বিপক্ষে ১৯ ম্যাচে ১৪ গোল করেছেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। কেবল লেস্টার সিটি আর এভারটনের বিপক্ষের এরচেয়ে বেশি গোল করেছেন তিনি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অ্যাওয়ে ভেন্যুতে কোনো ইংলিশ দলের বিপক্ষে গেল ছয় ম্যাচে মাত্র একটায় হেরেছে বায়ার্ন, সেটাও গেল সিজনে ম্যানসিটির বিপক্ষে। এবারে জার্মান জায়ান্টরা বেশ সিরিয়াস। কারণ একে তো বুন্ডেসলিগা টাইটেলটা মিস হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ২০১৯-২০ সিজনের শিরোপা জেতার পর টানা তিন মৌসুমে বিদায় নিতে হয়েছে এই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই। এবার আর তেমন তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চায় না বাভারিয়ানরা।
রোহিত শর্মা হয়ে উঠতে পারেন শচীন টেন্ডুলকার!
পাকিস্তানের উসমানকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করলো ইসিবি
‘ম্যাচ ফিক্সিং করলে নিজের ছেলের সাথেও সম্পর্ক ছিন্ন করতাম’