বাংলাদেশ কি আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে নাকি নাম প্রত্যাহার করে নেবে? যদি তারা খেলে, তবে কি ভারতে খেলবে নাকি শ্রীলঙ্কায়? বুধবার শেষ বিকেলের দিকে নির্ধারিত আইসিসির একটি বোর্ড সভার পর এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, বিসিবি সোজা জানিয়ে দিয়েছে. নিরাপত্তার খাতিরে তারা ভারতে দল পাঠাবে না এবং এর পরিবর্তে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ করেছে। তবে আইসিসি এখন পর্যন্ত সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। একাধিকবার বৈঠক হলেও কোনো সমাধান আসেনি। তবে আইসিসিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য বিসিবির জন্য ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
ইএসপিএন ক্রিকইনফো এই সংকটের সম্ভাব্য এবং অসম্ভাব্য কয়েকটি দৃশ্যপট তুলে ধরেছে-
১. বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে খেলতে রাজি হওয়া
গত ৪ জানুয়ারি ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের ফেসবুক পোস্টের পর থেকে সরকার এবং বিসিবি তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। বিসিবি বরাবরই সরকারের পরামর্শ মেনে চলছে এবং ভারতে তাদের দলের ওপর নিরাপত্তা হুমকির বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরছে। সরকার ও বিসিবি যেভাবে এই অবস্থানে অটল রয়েছে, তাতে তারা এখন পিছু হটে ভারতে খেলতে রাজি হলে সেটি হবে অনেক বড় চমক। আর এমনটা ঘটলে জনমনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২. আইসিসি বিসিবির দাবি মেনে নেয়া এবং শ্রীলঙ্কায় খেলা
এই দৃশ্যপটটি হবার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ। বিসিবি বারবার তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ করেছে। গত সপ্তাহের বৈঠকে তারা আয়ারল্যান্ডের সাথে গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল (গ্রুপ 'সি' থেকে 'বি'-তে যাওয়া), কারণ আয়ারল্যান্ডের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় নির্ধারিত। আইসিসি সেই প্রস্তাব এবং এই ধরনের আরও কিছু প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। তারা গ্রুপিং এবং সূচি পরিবর্তনের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
৩. বাংলাদেশের না বলে দেয়া এবং বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার
বর্তমানে এটিই সবচেয়ে সম্ভাব্য দৃশ্যপট হিসেবে মনে হচ্ছে। আর বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপে না যায়, তবে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। ক্রিকেটীয় দিক থেকে, আইসিসি ইভেন্টে না খেললে র্যাঙ্কিংয়ে বড় ধস নামবে; কারণ অন্য ১৯টি দল পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ পেলেও বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে। এটি পরবর্তী বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের যোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
খেলোয়াড়দের জন্য বিশ্বকাপ হলো নিজেদের প্রমাণের বড় মঞ্চ। বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা খুব একটা ডাক পান না। উদাহরণস্বরূপ, গত বিশ্বকাপে রিশাদ হোসেনের ১৪ উইকেটের পারফরম্যান্সই তাকে বিবিএল-এ জায়গা করে দিয়েছে।
এছাড়া আর্থিক ক্ষতির দিকটিও রয়েছে। বিসিবি আইসিসির দেয়া পাঁচ লাখ মার্কিন ডলারের প্রস্তুতি ফি হারাবে। এছাড়া খেলোয়াড়রা কমপক্ষে দুই লাখ ডলারের প্রাইজমানি থেকে বঞ্চিত হবে, যা ম্যাচ জিতলে আরও বাড়তে পারতো। বাংলাদেশ সরে দাঁড়ালে তাদের পরিবর্তে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
৪. আইসিসি এবং বিসিবির মধ্যে সমঝোতা হওয়া
এই পরিস্থিতিতে কোনো মাঝামাঝি পথ বা সমঝোতার জায়গা নেই বললেই চলে, তাই এটি ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম। সংকটের শুরুতে ভারতের ভেতরেই ভিন্ন কোনো ভেন্যুতে খেলার কথা উঠলেও বাংলাদেশ তা নাকচ করে দেয়। এদিকে পিসিবি পাকিস্তানে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে, যা কিছুটা অবাস্তব; কারণ পাকিস্তান নিজেই তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে।
এমন খবরও আছে যে বিসিবির দাবি মানা না হলে পাকিস্তানও নাম প্রত্যাহারের হুমকি দিচ্ছে, তবে এটি সম্ভবত কেবলই কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল। উল্লেখ্য, পিসিবি ইতিমধেই আইসিসিকে চিঠি লিখে বিসিবির বর্তমান অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে।
বিশ্বকাপ অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশ, বাদ দিলে আইনি ব্যবস্থা!
আইসিসির অযৌক্তিক চাপ মেনে নেয়া হবে না: ক্রীড়া উপদেষ্টা
বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে আইসিসিকে চিঠি দিলো পাকিস্তান