ক্রিকেট বিশ্বে টানটান উত্তেজনা। রাত পোহালেই বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল। স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি অষ্ট্রেলিয়া। রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামেই ফয়সালা হবে শিরোপার। তবে তার আগেই আলোচনা আর বিতর্ক শুরু হয়েছে আহমেদাবাদের উইকেট নিয়ে। কি সেই বিতর্ক?
ভারতীয় মিডিয়া জানাচ্ছে, ফাইনাল হতে পারে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের পুরনো উইটেকেই। আর এনিয়েই শুরু যত জল্পনার। ভারতে সাধারণত যেই ধরনের পিচ হয়ে থাকে, আহমেদাবাদেও ঠিক তাই। খেলার প্রথম ভাগে চকচক করলেও দ্বিতীয় ভাগে ভাঙ্গাচোরা অবস্থা। অর্থাৎ, প্রথমে ব্যাট করা দলই তুলে নেয় যত সুবিধা।
শুক্র ও শনিবার, দুই দিনেই অনেক ক্ষণ ধরে পিচ দেখেছেন রোহিত শর্মা এবং রাহুল দ্রাবিড়। এনিয়ে দুজনার কেউই কোন কথা বলেননি। এমনিতেই দু’জনে একটু ভাবগম্ভীর মানুষ, তাই তাদের মুখের অভিব্যক্তি দিয়েই কিছু বুঝতে পারছেন না দেশটির ক্রিকেট সাংবাদিকরা। তবে, উইকেট নিয়ে মাথাব্যথা নেই অজি দলপতির।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই মাঠে আছে ১১টি উইকেট। এক থেকে পাঁচ নম্বর উইকেট স্থানীয় কালো মাটির তৈরি। যেখানে ভালো বাউন্স পাওয়া যায়। সীমিত সংস্করণে বেশ সহায়ক। অন্যদিকে ছয় থেকে ১১ নম্বর উইকেটটি মুম্বাই থেকে আনা লাল পলিমাটির। এসব উইকেটে স্পিনাররা সুবিধা পান বেশি।

আহেমদাবাদের উইকেট স্পোর্টিং উইকেট হিসাবেই পরিচিত। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগে ব্যবহার করা কোন উইকেটেই। এই ভেন্যুতে বিশ্বকাপের এই পর্যন্ত চার ম্যাচ হয়েছে। যাতে আগে বোলিং করা দল জিতেছে তিনটিতেই। চারটিই হয়েছে লাল মাটির পিচে।
এখানে ইংল্যান্ডের ২৮৩ রান ৮২ বল আগেই পেরিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তানকে ১৯১ রানে আটকে ৭ উইকেটে জেতে ভারত। সবশেষ যে ম্যাচ হয়েছিল আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে তাতে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা তেমন একটা পাননি। গড়ে ২৬০ রানের উইকেটে পরে ব্যাট করা দলই সুবিধা পেয়ে আসছে।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ জিগ্যা গাজ্জার উইকেট নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া বলেছেন, আহমেদাবাদে এখনও পর্যন্ত খেলা সব ম্যাচ দেখে মনে হচ্ছে, এবারের পিচ স্পিনারদের জন্য খুবই উপকারী হবে। আগের ম্যাচগুলোতে ব্যাটিং নির্ভর পিচ থাকলেও, এবার স্পিনার বোলারদের জন্য খুবই ভাল উইকেট হবে।
আহমেদাবাদের এই উইকেটে রবীন্দ্র জাদেজা এবং কুলদীপ যাদব ভাল পারফর্ম করতে পারেন। ভারতীয় ক্রিকেটারদের বোলিং পারফরম্যান্স খুব ভাল হবে। এই মাঠটি বেশ বড়, তাই স্পিন বোলাররা উপকৃত হতে পারেন। তবে এই ম্যাচ হাই স্কোরিং হতে পারে। তৈরি হতে পারে নতুন কোন রেকর্ড।

তবে ফাইনালের উইকেট নিয়ে খুব বেশি মাথা দিতে নারাজ অজি দলপতি প্যাট কামিন্স। তিনি মনে করেন, উইকেট যেমনই হোক, অস্ট্রেলিয়া তাদের সেরা খেলাটাই খেলবে। তার আশা, স্পোর্টিং উইকেট হলে দারুণ একটা ফাইনাল হবে। আর ব্যাটে বলে যারা ভালো করতে তারাই মেষ হাসি হাসবে।
ফাইনালের আগে পিচ নিয়ে সব জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে প্যাট কামিন্স বলেন, যে দেশের মাটিতে খেলা তারা কিছুটা সুবিধা পাবেই । কিন্তু তাঁরাও লড়াই দিতে তৈরি। তিনি জানান, উইকেট দেখেছেন তিনি। তবে তাতে পানি দেয়া থাকায় তেমন কিছু বুঝতে পারেননি। আগের কোন উইকেটেই খেলা হবে বলে জানান তিনি।
অজি দলপতি প্যাট কামিন্স আরও বলেন, আহমেদাবাদের পিচ একেবারেই উপমহাদেশের পিচ, যেখানে পিচ থাকবে কোথাও কোথাও ভাঙা। তবে দীর্ঘ দিন ধরে ভারতে খেলার সুবাদে তাদের খুব একটা অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। যে চ্যালেঞ্জই আসুক, সেটা সামলাতে আমরা তৈরি। নিজেদের মতো পরিকল্পনা করেই নামব।
ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অধিনায়ক শান্ত
ফাইনাল নিয়ে আবারও আলোচনায় সেই ভবিষ্যদ্বাণী
রোহিতের মন বলছে ফাইনালে ভারতই জিতবে!