অপেক্ষা শেষ, রাত পোহালেই আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল। সুপার সানডে জমজমাট হবে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার মেগা ম্যাচ দিয়ে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হতে চলেছে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ম্যাচ।
আহমেদাবাদের এক লাখ ৩০ হাজার ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়ামে যে হাউসফুল থাকবে তাতে কোনই সন্দেহে সেই। অস্ট্রেলিয়া জানে, ফাইনালের শুধু ভারতের ১১ জনই না, প্রতিপক্ষ থাকবে এই গ্যালারিও।
তবে শনিবার ফাইনালে আগে অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স যেন স্ট্রেইট ব্যাটেই লেখতে চাইলেন। বললেন, বড় গ্যালারিকে তারা ভয় পান না। এমন বড় বড় মাঠে খেলেই তারা বড় হয়েছেন। প্রতিপক্ষের মাঠে কিভাবে রাজ করতে হবে, সে মন্ত্র তাদের ভালোই জানা হবে। ভারতকে ফাইনালের ফেবারিট মানলেও, এটা বলতে ছাড়েননি, মাঠের খেলা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ থাকতে হয়, সে বিদ্যায় তারা যথেষ্ট পারদর্শী।

অস্ট্রেলিয়ার কাছে রোববার জোড়া চ্যালেঞ্জ। এক, অপ্রতিরোধ্য ভারতের মোকাবিলা করা। দুই, আহমেদাবাদে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ভারতীয় সমর্থকের সামনে পারফর্ম করা। টিম ইন্ডিয়ার ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ। তাই ভারতের অ্যাডভান্টেজ রয়েছে। প্রতি ম্যাচে বিপুল সংখ্যক সমর্থক গলা ফাটাচ্ছে মেন ইন ব্লুর জন্য। আহমেদাবাদেও ছবিটা আলাদা হবে না। সে কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা তৈরি অসি শিবিরে।
কামিন্স বলেন, আমরা সকলেই জানি, ফাইনাল ম্যাচে গ্যালারি একদম ঠাসা থাকবে। ১ লক্ষ ৩০ হাজার দর্শক ভারতকেই সমর্থন করবেন। এই ব্যাপারটা বেশ দারুণ। ওরা এই আসরে অসাধারণ খেলছে। এখনও হার না মানা ভারত। জানি, নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে পারলে আমরা টিম ইন্ডিয়াকে টিমকে হারাতে পারব। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতিই রয়েছে। দর্শক ও ভারত, সবই আমরা পরিকল্পনায় রেখেছি।
কামিন্স আর বলেন, এক প্রতিপক্ষ দলের ক্রিকেটার হিসেবে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পাব, যখন রোববার সব দর্শককে এক মুহূর্তে চুপ করিয়ে দিতে পারব। যে কারণে এক কথায় বলা যায় অজিদের ফাইনালে ট্রফি তোলার টার্গেট ১ লক্ষ ৩০ হাজার ১১ জন প্রতিপক্ষকে সামলানো। আর সেটা সামলে নিয়েই আমাদের শিরোপা জিততে হবে, সেটা মনের মধ্যে গেঁথেই আমরা মাঠে নামবো।

ভারতের দাপটের কথা অকপটে স্বীকার করে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেন, এখনো নিজেদের সেরাটা দিতে পারেননি তারা। আমাদের জন্য একটি আন্দদদায়ক ব্যাপার হচ্ছে যে, আমি এখনও মনে করি না আমরা পরিপূর্ণ খেলাটা খেলতে পেরেছি। হয়তো নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ছাড়া আমাদের বড় জয় নেই। আমাদের সব জয় পেতেই লড়াই করতে হয়েছে এবং আমরা জয়ের একটা পথ খুঁজে পেয়েছি।
ফাইনালের পিচ নিয়ে কামিন্স বলেন, একবার মাত্র তাকিয়েছি। আমি পিচ খুব বেশি ভালো বুঝি না। কিন্তু এটাকে ভালোই মনে হয়েছে। দেখলাম, তারা মাত্র পানি দিয়েছে। তাই আরও ২৪ ঘণ্টা সময় যাক, এরপর দেখা যাবে। কিন্তু এটাকে ভালো উইকেটই মনে হচ্ছে। পিচ ব্যাটিং নাকি বোলিং বান্ধব হলো- এটা কোনো ব্যাপার নয় তার কাছে। অস্ট্রেলিয়া দল সবকিছুর জন্যই তৈরি।
কামিন্স আরও যোগ করেন, আমার মনে হয়, এখানে টস গুরুত্বপূর্ণ নয়। যেমনটা মুম্বাইয়ের ক্ষেত্রে বা অন্য ভেন্যু সম্পর্কে বলা হয়। তাই তারা যা–ই আমাদের দিক না কেন, আমরা সব কিছুর জন্য তৈরি থাকব। দেখি এরপর কী হয়। কিন্তু নিশ্চিত করেই আমাদের কিছু পরিকল্পনা থাকবে। আমরাও এখানে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। তাই দেখি, কী হয়। নিশ্চিত করেই এটা দুই দলের জন্য একই।
ফাইনাল নিয়ে আবারও আলোচনায় সেই ভবিষ্যদ্বাণী
রোহিতের মন বলছে ফাইনালে ভারতই জিতবে!
ফাইনালের উইকেট নিয়ে এতো কথা কেন?