আসছে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের হাই-ভোল্টেজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা কাটাতে লাহোরে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বয়কট সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে লাহোরে পৌঁছেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলামও।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিসিবি সভাপতির আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পিসিবি। আমিনুল ইসলাম পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাত করবেন এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নেবেন। খবর ইএসপিএনক্রিকইনফোর।
এই সংকট নিরসনে ব্যাক-চ্যানেল বা নেপথ্য আলোচনায় যুক্ত হয়েছেন আইসিসি পরিচালক ইমরান খাজা এবং মুবাশির উসমানি। দুই সপ্তাহ আগে মহসিন নকভী পাকিস্তানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করার পর থেকেই এই দুই প্রতিনিধি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আজ লাহোরে মহসিন নকভী ও আমিনুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকেও তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
মূলত বাংলাদেশ দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থান। পিসিবি শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং একে ‘অবিচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার পেছনে বাংলাদেশ ইস্যুটিকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিসিবি সভাপতির এই সফরকে পিসিবির সেই সংহতিরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইসিসির বোর্ড সভায় বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার বিপক্ষে একমাত্র পাকিস্তানই ভোট দিয়েছিল। পিসিবি প্রধান মহসিন নকভী আইসিসির বিরুদ্ধে ‘দ্বিমুখী নীতি’র অভিযোগ তুলেছেন এবং বাংলাদেশের প্রতি হওয়া এই অন্যায়ের প্রতিকার দাবি করেছেন।
এদিকে, পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজোর’ (অনিবার্য পরিস্থিতি) ক্লজটি কেন ব্যবহার করছে, তার ব্যাখ্যা চেয়েছে আইসিসি। মেম্বারস পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী এই ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া এই বয়কটের ফলে ক্রীড়াঙ্গন, বাণিজ্য ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, সে বিষয়েও পিসিবিকে অবহিত করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
পিসিবি এক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় জানিয়েছে, তারা নিজ থেকে আইসিসির কাছে যায়নি, বরং আইসিসিই আলোচনার জন্য তাদের সাথে যোগাযোগ করেছে।
আগামী রোববার কলম্বোতে ভারত ও পাকিস্তানের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে টুর্নামেন্টে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে জয় পেয়েছে দুই দলই। এখন ক্রিকেট বিশ্বের নজর লাহোরের এই বৈঠকের দিকে—বাংলাদেশ ইস্যু ও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ভাগ্য নিয়ে সেখান থেকে কী সমাধান আসে, তা দেখার অপেক্ষায় সবাই।
