মাররারা স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে যখন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এসে বসলেন, তখন তাঁর মুখচ্ছবিতে স্পষ্ট ধরা পড়ছিল সীমাহীন হাহাকার ও স্তম্ভিত হওয়ার ছাপ! এর আগেও অজিদের অধিনায়ক হিসেবে ৯টি টেস্টে হারের স্বাদ পেয়েছেন তিনি, এমনকি ২০২৪ সালে গ্যাবায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিত হারের স্মৃতিও তার অজানা নয়। তবে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এই ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন হার সব কিছুকে ছাপিয়ে এক মহালজ্জার অধ্যায় হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষে থাকা, টানা দুই ফাইনাল খেলা এবং বিগত ১৩টি টেস্টের ১১টিতেই জেতা এক অপরাজেয় পূর্ণশক্তির পরাশক্তিকে এভাবে ধুলোয় মিশিয়ে দেবে ২৩ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আমন্ত্রণ না পাওয়া এক দল, তা অজিদের দূরতম স্বপ্নেও ছিল না!

যে দলটি কিছুদিন আগেই জিম্বাবুয়ের কাছে তিন দিনে হেরেছিল এবং অস্ট্রেলিয়ার ইমার্জিং দলের বিরুদ্ধে প্র্যাকটিস ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল, সেই বাংলাদেশই বিশ্বসেরা বোলিং আক্রমণের মুখে এক ইনিংসে ৪২৬ রানের পাহাড় গড়ে অজি বিশ্বজয়ে থাবা বসিয়েছে!
সংবাদ সম্মেলনে নিজের অহংকার বিসর্জন দিয়ে অজি অধিনায়ক কামিন্স খোলাখুলিই স্বীকার করেছেন টাইগারদের শ্রেষ্ঠত্ব। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এই জয়ের শতভাগ দাবিদার। চলতি সপ্তাহে তারা আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত ক্রিকেট খেলেছে। ব্যাটিং, বোলিং বা ফিল্ডিং, সব বিভাগেই তারা আমাদের উড়িয়ে দিয়েছে। তারা প্রচণ্ড ধৈর্য ধরে আমাদের ম্যাচের বাইরে ছিটকে দিয়েছে। কোনো টেস্ট ম্যাচ হারাই সহজ নয়, তবে আমরা নিজেদের যে উচ্চতায় দেখি, আমাদের খেলা মোটেও সেই মানের ছিল না।
চারজন ৩০০+ উইকেটশিকারী বোলার নিয়ে গড়া অজিদের ঐতিহাসিক বোলিং লাইনআপকে নিয়ে এক ইনিংসে বাংলাদেশের ছাঁটাই ব্যাটার ও টেলএন্ডাররা যা করেছেন, তার বিপরীতে অজিদের পুরো ব্যাটাররা দুই ইনিংস মিলিয়ে ২০ উইকেট হারিয়ে করতে পেরেছেন মাত্র ৪৮২ রান! মিরাজের ঘূর্ণি জাদুর সামনে নাথান লায়নের মতো তারকা স্পিনারও ঢাকা পড়ে গেছেন।

ম্যাচের আগেই গলফ কোর্সে অজি ক্রিকেটারদের আড্ডা দেওয়ার ছবি ও বাংলাদেশকে 'চিনতে না পারার' হালকা সুর এখন অজি সংবাদমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তানজিদ হাসান তামিমের মতো ব্যাটার ৯৩টি আন্তর্জাতিক সাদা বলের ম্যাচ খেললেও তাঁকে হালকাভাবে নেওয়ার খেসারত দিতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। মার্নাস লাবুশেন ও ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ডের চরম ব্যর্থতা এখন অজি একাদশে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
একমাত্র ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরি ছাড়া ব্যাটিং লাইনের দুর্বলতা একেবারে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে শান্তর দল। এক সময়ের অপরাজেয় এই অজি দলটির জন্য এই হার কেবল একটি পরাজয় নয়, বরং বিশাল এক লজ্জা! আগামী ম্যাচে ম্যাকায়ে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এখন খাদের কিনারে কামিন্সের দল।
তথ্যসূত্র: ইএসপিএন ক্রিকইনফো
