মেসি নাকি রদ্রিগেজ, ফাইনালে কে ঘুরিয়ে দেবেন ম্যাচ। সবাইকে টপকে ১৬ নম্বর শিরোপার দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনা। এদিকে, ২৩ বছরের খরা মিটাতে প্রস্তুত কলম্বিয়া। কোপা আমেরিকার গ্র্যান্ড ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে ২৮ ম্যাচ না হারা কলম্বিয়া। খেলা শুরু সোমবার সকাল ৬টায়।
কিচেনে আর্জেন্টাইন শেফের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চলছে দিবোনিসা ম্যানিয়া, তো অন্যদিকে হেয়ার কাটে হামেস রদ্রিগেজ। কোপা আমেরিকার উত্তেজনা জমে উঠেছে ষোলোআনা।
লাতিন শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার মিশনে আর্জেন্টিনা, সেই শ্রেষ্ঠত্ব আবার কেড়ে নিতে হুঙ্কার দিচ্ছে কলম্বিয়া। ট্যাকল, পাস, গোল, সেভ... দুই জায়ান্টের শো পিস লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত ফ্লোরিডার হার্ডরক স্টেডিয়াম।
১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অন্যদিকে একবারই শিরোপা ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেয়েছিলো কলম্বিয়া সেটাও সেই ২০০১ সালে। তবে এবারের ফাইনালের লড়াইয়ে বলা যেতে পারে দুই সেয়ানের টক্কর। ২৮ ম্যাচে হারে না হামেস রদ্রিগেজের দল আর্জেন্টিনা গেলো পাঁচ বছরে ৬১ ম্যাচে হেরেছে কেবল ২ ম্যাচ।
এবারের টুর্নামেন্টে ওপেন প্লেতে ৬ গোল করার বিপরীতে স্কালোনির দল হজম করেছে কেবল একটা। রদ্রিগেজের দল প্রতিপক্ষের জালে দিয়েছে ১২ গোল হজম করেছে মোটে দুইটা। সবচেয়ে বেশি ৪টি ক্লিনশিপ ধরে রেখেছে এমি মার্তিনেজরা। এরপরই অবশ্য কলম্বিয়া নাম তাদের ক্লিনশিট তিনটি।
দু’দলের হেড টু হেডে অবশ্য এগিয়ে লিওনেল মেসির দল। ২২ লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার ১৩ জয়ের বিপরীতে ৩ ম্যাচ জিতেছে কলম্বিয়া।
শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে হতে যাচ্ছে দুই দলের ১০ নম্বরের মহা লড়াই। যদিও নামে ভারে মেসির ধারেও নেই রদ্রিগেজ। তবে সাম্প্রতিক পারফর্ম্যান্সে মেসি খানিকটা রঙহীন। টুর্নামেন্টে একটাই গোল করেছেন, অ্যাসিস্টও একটা। চান্স ক্রিয়েট করেছেন ৮টি।
অন্যদিকে, হামেস রদ্রিগেজ যেন তার সেরা ফর্মে। গোল একটি করলেও অ্যাসিস্ট করেছেন ৬টি। যা ভেঙে দিয়েছে লিওনেল মেসির রেকর্ড। গোরের চান্স ক্রিয়েট করেছেন পাঁচটা। একই সাথে কি পাস দিয়েছেন ১৭টি। এবারের আসরের সেরা ফুটবলার হতে যাচ্ছেন এই কলম্বিয়ান।
আর্জেন্টিনা শিবিরে নেই ইনজুরি সমস্যা। অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামতে যাচ্ছে স্ক্যালোনির শিষ্যরা। ৪-৪-২ ফর্মেশনে মেসির পাশে যথারীতি হুলিয়ান আলভারেজ।
অন্যদিকে, ফাইনালে দানিয়েল মুনোজকে ছাড়াই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামবে হবে কলম্বিয়াকে। উরুগুয়ের বিপক্ষে সেমিফাইনালে লাল কার্ড খেয়ে ফাইনালে নিষিদ্ধ হন মুনোজ। শঙ্কা আছে রিচার্ড রায়োসকে নিয়েও। আর এই ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের হারাতে হলে, কাজটা করতে হবে ৯০ মিনিটের মধ্যেই। খেলা টাইব্রেকারে গেলেই সব শেষ। কারণ মনস্টার মার্তিনেজকে টপকে যাওয়া কঠিনই নয় অসম্ভবও বটে।
স্ট্যাট থেকে সুপার কম্পিউটার প্রেডিকশন সবখানেই জিতে বসে আছে আর্জেন্টিনা। হিসেব বলছে মেসিদের ফাইনাল জেতার সম্ভাবনা ৬২.৪%, কলম্বিয়ার বেলার ৩৭.৬%।
লাস্ট বাট নট দ্য লিট... রোমাঞ্চকর ফাইনালের রোমাঞ্চ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে থাকছে শাকিরার ‘হাফটাইম শো’। তবে এই কলম্বিয়ান পপ তারকা পারফর্ম করলে ম্যাচ হারে আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালে ফাইনালে হয়েছিলো যেমনটা।
ফাইনালে ব্রাজিলের পাঁচ রেফারি, দুশ্চিন্তায় আর্জেন্টাইন সমর্থকরা