ব্রাজিলের ফুটবল ঈশ্বরখ্যাত নেইমার আরও একবার বিশ্বকাপের মঞ্চে হলুদ জার্সি গায়ে জড়াতে মরিয়া। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিরতির সময় তিনি হাঁটুতে একটি বিশেষ অস্ত্রোপচার করেছেন। সান্তোস কোচ কুকা নিশ্চিত করেছেন, নেইমার এখন মাঠে ফেরার জন্য ছটফট করছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটছে। অন্যদিকে, কোন কার্লো আনচেলত্তিকে যোগ্যতা প্রমাণে নেইমারকে দু’মাস সময় দিয়েছেন।
ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতির জন্য ঘোষিত স্কোয়াড থেকে নেইমারকে বাদ রেখেছিলেন। এর ফলে এই গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে তার জায়গা পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়। তবে আনচেলত্তির পরিকল্পনায় আপাতত না থাকলেও নেইমার দমে যাননি। সান্তোস বস কুকার মতে, নেইমার পর্দার আড়ালে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
কোচ কুকা জানান, বিরতির সময় নেইমার চার থেকে পাঁচ দিন হাঁটুর চিকিৎসার পর বিশ্রামে ছিলেন। এরপর থেকেই তিনি ফিটনেস পুনরুদ্ধারে মনোনিবেশ করেছেন। বর্তমানে তিনি পেশির শক্তি বৃদ্ধি, গতি ও সহনক্ষমতা বাড়ানোর ওপর কাজ করছেন। পরবর্তী আন্তর্জাতিক বিরতির আগে টানা ১৩টি ম্যাচ খেলার জন্য তিনি নিজেকে প্রস্তুত করছেন। কোচিং স্টাফ এবং মেডিকেল টিম তার শক্তির মাত্রা বাড়াতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে যাতে বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত তিনি শীর্ষ ফর্মে থাকতে পারেন।
ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৭৯ গোল) হিসেবে নেইমার দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে তিনি তিনটি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে তার পরিসংখ্যানও ঈর্ষণীয়; ১৩ ম্যাচে ৮টি গোল এবং ৩টি অ্যাসিস্ট রয়েছে তার নামে।
ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে গোল অবদানে কেবল রোনালদো নাজারিও, পেলে এবং জর্জিনহোর পরেই তার অবস্থান। এমন একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের উপস্থিতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মরক্কো, স্কটল্যান্ড এবং হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে পানামা এবং মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা। নেইমারের বর্তমান সংকল্প এবং পুনর্বাসনের গতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি আনচেলত্তির মন জয় করে আবারও জাতীয় দলে ফিরতে প্রস্তুত। ভক্তরা আশা করছেন, যান্ত্রিক কোনো বাধা না থাকলে ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের তুরুপের তাস হতে পারেন এই সুপারস্টার।
বিশ্বকাপের আগে জার্মানির বড় ধাক্কা, ইনজুরিতে ন্যাব্রি