বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে আবারও নির্বাচনে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন। ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসের সমাপনী মুহূর্তে তিনি ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের জন্য নিজের প্রার্থিতা নিশ্চিত করেন। এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো যখন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র দুই মাস বাকি।
ফিফার পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ মরক্কোতে। উল্লেখ্য, মরক্কো ২০৩০ বিশ্বকাপের অন্যতম সহ-আয়োজক দেশ। চতুর্থবার নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে ইনফান্তিনো নিজেকে সম্মানিত বোধ করছেন বলে উল্লেখ করেন। ৫৬ বছর বয়সী এই ইতালীয়-সুইস কর্মকর্তা ২০১৬ সালে সেপ ব্লাটারের স্থলাভিষিক্ত হন। এরপর ২০১৯ সাল থেকে নির্বাচনে তিনি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই পুনর্নির্বাচিত হন।

ইনফান্তিনোর মেয়াদে ফিফা তার আসরগুলোর ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে। চলতি বছর উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপটিই হবে ইতিহাসে প্রথম ৪৮ দলের টুর্নামেন্ট। এর আগে ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপেও দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩২-এ উন্নীত করা হয়। তার এই সম্প্রসারণমুখী নীতি ফুটবল বিশ্বে যেমন প্রভাব ফেলেছে, তেমনি বাণিজ্যিকভাবেও ফিফাকে শক্তিশালী করেছে।
তবে সাফল্যের পাশাপাশি ইনফান্তিনোর দীর্ঘ এই কার্যকাল কিছু বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপের টিকেটের উচ্চমূল্য নিয়ে সাধারণ দর্শকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এছাড়া গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত 'ফিফা শান্তি পুরস্কার' প্রদান করার সিদ্ধান্তটি ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

সমালোচনা থাকলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইনফান্তিনোর অবস্থান বেশ শক্তিশালী। চলতি মাসের শুরুর দিকে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সর্বসম্মত সমর্থন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইনফান্তিনো আবারও নির্বাচনে দাঁড়ালে দক্ষিণ আমেরিকার সদস্য দেশগুলো একযোগে তার পক্ষেই থাকবে। এছাড়াও্, আফ্রিকা ও এশিয়াও তাঁকে সমর্থন দেবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালের নির্বাচনে ইনফান্তিনোর জয়ী হওয়া এবং পরবর্তী চার বছরের জন্য ফিফার নেতৃত্বে থাকা এখন সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। তার নেতৃত্বে আগামী দিনগুলোতে বিশ্ব ফুটবলে আরও নতুন কোনো বড় পরিবর্তন আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
