ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকতে টুর্নামেন্টটির সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে চীনের জাতীয় গণমাধ্যমের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান ‘চায়না মিডিয়া গ্রুপ’ (সিএমজি)। শুক্রবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
নানজিং-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইয়াংজি ইভনিং পোস্ট’ এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, চুক্তির আর্থিক মূল্য কিংবা এটি ২০২৬ ও ২০৩০ উভয় বিশ্বকাপের জন্য প্রযোজ্য কি না,তা প্রকাশ করেনি।

এর আগের বিশ্বকাপগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক সিসিটিভি অনেক আগেই সম্প্রচার স্বত্ব নিশ্চিত করে ফেলেছিল এবং খেলা শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান ও স্পন্সরদের বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করে দিয়েছিল। টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক জনপ্রিয় এই সিসিটিভি চ্যানেলটির কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি।
চলতি মাসের শুরুর দিকে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছিল, তারা বিশ্বজুড়ে ১৭৫টিরও বেশি অঞ্চলে সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন করেছে; তবে চীন ও ভারতের সাথে আলোচনা তখনও চলছিল।
চলতি সপ্তাহে ফিফার সাধারণ সম্পাদক মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম বেইজিং সফর করেন এবং চীনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সং কাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরের পরই গুঞ্জন জোরালো হয় যে, সিএমজি এবং ফিফার মধ্যকার আলোচনা চূড়ান্ত রূপ পেতে চলেছে।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ের এক অভিজ্ঞ সূত্র জানিয়েছেন, সিসিটিভি ইতিমধ্যেই চায়না মোবাইলের স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘মিগু’-কে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য একটি ডিস্ট্রিবিউশন চুক্তি সই করার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে সিসিটিভি এবং ফিফার মধ্যকার চুক্তির মূল্য বা শর্তাবলী সম্পর্কে ওই সূত্র কিছু জানাতে পারেননি। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মিগু’র সাথেও তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে সিসিটিভি প্রথমবারের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে লাইভ ডিজিটাল স্বত্ব ভাগাভাগি করেছিল। সে সময় তারা বিশ্বকাপের স্ট্রিমিং স্বত্ব মিগু এবং আলিবাবার ‘ইউকু’-কে সাবলাইসেন্স হিসেবে দেয়। পরে, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় সিএমজি এই ডিস্ট্রিবিউশন পরিধি আরও বাড়িয়ে মিগু, ডুইন এবং বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক টিভি চ্যানেলকে যুক্ত করে।
