যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। শনিবার, সিউলে এক সংবাদ সম্মেলনে কোচ হং মিয়ুং-বো এই দল ঘোষণা করেন। ঘোষিত এই দলে যেমন রয়েছে নতুন ইতিহাসের ছোঁয়া, তেমনি দলের মূল ভরসা হিসেবে থাকছেন তারকা ফরোয়ার্ড সন হিউং-মিন; বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বেই খেলবে দক্ষিণ কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার এবারের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ মিডফিল্ডার জেনস ক্যাসট্রপ। বরুসিয়া মনচেনগ্লাডবাখের এই লড়াকু মিডফিল্ডার প্রথম দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পন্ন খেলোয়াড় হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন।

জার্মানিতে জন্ম নেয়া ক্যাসট্রপের বাবা জার্মান এবং মা কোরিয়ান। তিনি বয়সভিত্তিক পর্যায়ে জার্মানির হয়ে খেললেও, গত বছর নিজের আনুগত্য পরিবর্তন করেন এবং ইতিমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার জার্সিতে পাঁচ ম্যাচ খেলেছেন। এতে করে দুই ভিন্ন দেশের হয়ে বাবা-ছেলের বিরল রেকর্ডের অধিকারী হন তিনি।
টানা ১১ বারের মতো বিশ্বকাপ মঞ্চে পা রাখতে যাওয়া ‘তায়েগুক ওয়ারিয়র্স’দের নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সন হিউং-মিন। দেশের হয়ে ৫৪টি গোল করা সনের ওপর দল যে কতটা নির্ভরশীল, তা স্কোয়াডে স্ট্রাইকারের সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায়। সনের পাশাপাশি দলে মাত্র দুজন প্রথাগত স্ট্রাইকার রাখা হয়েছে—তার্কিশ ক্লাব বেসিকতাসের হয়ে ফর্মে থাকা ওহ হিয়ন-গু এবং চো গুয়ে-সাং।

দলে বড় কোনো চমক না থাকলেও প্যারিস সেন্ট জার্মেইর মিডফিল্ডার লি কাং-ইন এবং বায়ার্ন মিউনিখের তারকা ডিফেন্ডার কিম মিন-জায়ে প্রত্যাশিতভাবেই দলে জায়গা করে নিয়েছেন। এছাড়া গোলরক্ষকের মূল পজিশন নিয়ে লড়াই হবে জো হিয়ন-উ এবং কিম সেউং-গ্যুর মধ্যে।
দলে ডাক পেয়েছেন ৭১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা মিডফিল্ডার হুয়াং ইন-বম। গত মার্চ মাস থেকে ডাচ ক্লাব ফেইনুর্ডের হয়ে গোড়ালির ইনজুরিতে ভুগলেও তাঁর ওপর আস্থা রেখেছেন কোচ। হং মিয়ুং-বো বলেন, "সে ইদানীং খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি, তাই ম্যাচ ফিটনেস পুরোপুরি ফিরে এসেছে বলা যাবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দুটি প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে আমরা তাঁর ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছি।"
বিশ্বকাপের মূল আসর শুরুর আগে কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে উটাহ-তে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং এল সালভাদরের বিরুদ্ধে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে দক্ষিণ কোরিয়া।

এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া এ-গ্রুপে খেলবে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক মেক্সিকো, চেক প্রজাতন্ত্র এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী ১১ জুন গুয়াদালাহারায় চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে। তবে মেক্সিকোর বিভিন্ন ভেন্যুর উচ্চতাগত তারতম্য দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন কোচ।
হং মিয়ুং-বো আত্মবিশ্বাসের সাথে যোগ করেন, কোরিয়া সব সময় বিশ্বকাপে চ্যালেঞ্জার হিসেবে খেলেছে। এই বিশ্বকাপে অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে, যা আমাদের জন্য বড় কোনো অঘটন ঘটানোর ভালো সুযোগ।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলরক্ষক: কিম সেউং-গ্যু, সং বাম-কেউন, জো হিয়ন-উ।
ডিফেন্ডার: কিম মিন-জায়ে, কিম মুন-হওয়ান, কিম তাই-হিয়ন, পার্ক জিন-সেওপ, সিওল ইয়ং-উ, জেনস ক্যাসট্রপ, লি কি-হিয়োক, লি তাই-সিওক, লি হান-বিওম, চো ইউ-মিন।
মিডফিল্ডার: লি কাং-ইন, হুয়াং ইন-বম, হুয়াং হি-চ্যান, কিম জিন-গ্যু, বে জুন-হো, পাইক সেউং-হো, ইয়াং হিউন-জুন, ইওম জি-সুং, লি ডং-গিয়ং, লি জে-সুং।
ফরোয়ার্ড: সন হিউং-মিন (অধিনায়ক), ওহ হিয়ন-গ্যু, চো গুয়ে-সাং।
অভিজ্ঞ সনের আক্রমণভাগ আর কিম মিন-জায়ের রক্ষণভাগের সাথে জার্মানি ফেরত ক্যাসট্রপের মিডফিল্ড শক্তি, সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত দক্ষিণ কোরিয়া। পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এশিয়ার এই পরাশক্তি বিশ্বমঞ্চে কতদূর যেতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
