ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাঝে এবার নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে মেক্সিকো ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচকে ঘিরে। জানা গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার ঝুঁকির কারণে রোববার (বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ৬টা) অনুষ্ঠিতব্য এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটির কিক-অফের সময় পরিবর্তন করা হতে পারে।
ফিফার অভ্যন্তরীণ আলোচনা অনুযায়ী, ম্যাচটি এগিয়ে রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (যুক্তরাজ্যের সময় সন্ধ্যা ৭টা, বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা) নিয়ে আসার চিন্তা চলছে। গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই ফিফা এবার আগেভাগেই এমন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়ার পথে।
এই সম্ভাব্য পরিবর্তনের খবরটি নিয়ে অবশ্য ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে খুব একটা অস্থিরতা নেই। বরং ইংলিশ প্লেমেকার মরগান রজার্স একে দেখছেন মাঠের বাইরের আরেকটি 'চ্যালেঞ্জ' হিসেবে।
তিনি বলেন, এটি আরেকটি বাধা মাত্র, যা আমাদের জয় করতে হবে। সময় যাই হোক, আমরা খেলার জন্য প্রস্তুত। তবে সময় এগিয়ে এলে আমাদের জন্য ভালোই, কারণ দীর্ঘ অপেক্ষার চেয়ে মাঠে নেমে পড়াটাই বেশি স্বস্তিদায়ক।

মার্কাস রাশফোর্ডও একই সুরে জানালেন, প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সময়ের পরিবর্তন বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না। দলের লক্ষ্য স্থির রাখা এবং যেকোনো প্রতিকূলতার জন্য প্রস্তুত থাকাই এখন প্রধান কাজ।
তবে, ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর। আজতেকা স্টেডিয়ামের প্রতিকূল পরিবেশ, স্থানীয় দর্শকদের উত্তাল হোস্টাইল পরিস্থিতি, আর তার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে উচ্চতাজনিত সমস্যা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটারেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামে মানিয়ে নেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মনে করছেন টুখেল।
টুখেল পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেয়া শারীরিকভাবে সম্ভব নয়। আমাদের হাতে সময়ও খুব কম। এটি মেক্সিকোর জন্য বড় একটি সুবিধা এবং আমাদের জন্য নিশ্চিতভাবেই একটি অসুবিধা। তবে আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং এই বাধাগুলো অতিক্রম করেই এগিয়ে যেতে চাই।
আজটেকা স্টেডিয়ামের পরিচিত পরিবেশ ও মেক্সিকানদের গ্যালারির গর্জন ইংল্যান্ডের জন্য যে বিশাল এক পরীক্ষা হতে যাচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। দুর্যোগের ঝুঁকি, সময়ের অনিশ্চয়তা আর উচ্চতার লড়াই, সব মিলিয়ে মেক্সিকোর মাঠে এক রুদ্ধশ্বাস ও নাটকীয় লড়াই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব ফুটবল। ইংল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচটি শুধু জেতার নয়, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে টিকে থাকার এক কঠিন লড়াই।
তথ্যসূত্র: এপি-ইএসপিএন
