বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র তিন সপ্তাহেরও কম সময়। তার আগেই ঘরের মাঠে প্রীতি ম্যাচে ঘানাকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের আগমনী বার্তা দিয়ে রাখল মেক্সিকো। মেক্সিকোর পুয়েবলা শহরে অনুষ্ঠিত এই ওয়ার্ম-আপ ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে টুর্নামেন্ট নিয়ে উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
যদিও পুয়েবলা শহরটি মেক্সিকোর বিশ্বকাপ ভেন্যুগুলোর তালিকায় নেই, তবুও শুক্রবার রাতে কুউহতেমক স্টেডিয়ামে সবুজ জার্সি পরিহিত দর্শকদের উপস্থিতি গোটা আবহকে বিদ্যুন্ময় করে তুলেছিল। অতীতে জাতীয় দলের ম্যাচে বৈষম্যমূলক স্লোগান দেয়ার অপরাধে ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে গ্যালারির কিছু অংশ খালি রাখতে হয়েছিল। তবে, সেই শূন্যতা বুঝতেই দেননি দর্শকরা; পুরো ম্যাচ জুড়ে স্টেডিয়ামে একের পর এক মেক্সিকান ওয়েভের ঢেউ আছড়ে পড়েছে।

ম্যাচের শুরুতেই মেক্সিকোকে লিড এনে দেন ব্রায়ান গুটিয়েরেজ। খেলা শুরুর মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে দারুণ এক বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান তিনি। প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল মেক্সিকো। লিগা এমএক্সের টিনএজ সেনসেশন গিল মোরা’র একটি দুর্দান্ত শট বারে লেগে ফিরে আসে এবং বিরতির ঠিক আগে আলেক্সিস ভেগার একটি হেডার অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়।
চোট কাটিয়ে গত নভেম্বরের পর এই প্রথম জাতীয় দলে ফেরা মোরা’কে নিয়ে মেক্সিকান কোচ হাভিয়ের আগুইরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ও একদম অন্য ধাঁচের খেলোয়াড়, আমরা সব সময়ই তা বলি। ও সাহসী, সরাসরি আক্রমণে যায় এবং ক্ষীপ্র গতিসম্পন্ন। ও কোনো ব্যথা ছাড়াই মাঠে ফিরেছে এবং ও একজন মেক্সিকান, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।
অন্যদিকে ঘানা দল মাঠে নেমেছিল তাদের সদ্য নিযুক্ত কোচ কার্লোস কুইরোজকে ছাড়াই। কোচের অনুপস্থিতিতে সহকারী কোচের অধীনে খেলতে নেমে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মেক্সিকোকে বেশ চেপে ধরেছিল আফ্রিকান দলটি। মেক্সিকান গোলরক্ষককে দুটি দুর্দান্ত সেভ করতে বাধ্য করার পাশাপাশি ঘানার একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে সমতায় ফেরা হয়নি তাদের।

তবে ঘানার সেই ম্যাচে ফেরার আশায় জল ঢেলে দেন মেক্সিকোর বদলি খেলোয়াড় গুইলারমো মার্টিনেজ। ৫৪ মিনিটে এক চোখধাঁধানো কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে মেক্সিকোর জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
১ জুন বিশ্বকাপের জন্য মেক্সিকোর চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন কোচ আগুইরে। তার আগে খেলোয়াড়দের শেষবারের মতো যাচাই করে নিতেই এই প্রীতি ম্যাচটিকে বেছে নিয়েছিলেন তিনি।
ইউরোপের লিগে খেলা লুইস শ্যাভেজ, এডসন আলভারেজ এবং জর্জ সানচেজ সম্প্রতি অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়ে এই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন।
চূড়ান্ত দলে জায়গা পাওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের এই লড়াই এবং কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করে কোচ বলেন, ছেলেরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করেছে, এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় সার্থকতা। দল নির্বাচন করা মোটেও সহজ কাজ নয়, এটি আমার চাকুরির সবচেয়ে জটিল অংশ। আমার কোচিং স্টাফদের সাথে নিয়ে দলের সব সম্ভাব্য দিকগুলো খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছি।
