মার্চ মাস থেকে গোড়ালির চোটে মাঠের বাইরে। অথচ আগামী মাসে মাঠে গড়াতে যাওয়া উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের জন্য যখন কোচ হং মিউং-বো দক্ষিণ কোরিয়ার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করলেন, তখন সেখানে জ্বলজ্বল করছিল তাঁর নাম। তিনি আর কেউ নন, কোরিয়ান মাঝমাঠের অন্যতম প্রধান ভরসা ২৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডার হাওয়াং ইন-বিওম। দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকায় তাঁর ফিটনেস নিয়ে দেশের ফুটবল মহলে যখন জোর গুঞ্জন ও দুশ্চিন্তা, ঠিক তখনই সব আশঙ্কাকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে এক বজ্রহুঙ্কার দিলেন এই ডাচ ক্লাব ফেইনুর্ড তারকা।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাতে চলছে দক্ষিণ কোরিয়া দলের বিশেষ কন্ডিশনিং ক্যাম্প। সেখানে কোরিয়ান সংবাদ সংস্থা- ইয়নহাপ নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সমালোচকদের আশ্বস্ত করে হাওয়াং বলেন, আমি এখনই স্কোয়াডের বাকিদের সাথে পুরোদমে অনুশীলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত। তাই আমার ফিটনেস নিয়ে বিন্দুমাত্র দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। 
নিজের শারীরিক উন্নতির কথা জানিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, আমি নিজেই অনুভব করতে পারছি যে প্রতি সপ্তাহের সাথে সাথে আমার শরীরের মুভমেন্ট বা নড়াচড়া আরও মসৃণ হচ্ছে। তবে হ্যাঁ, চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার পর ম্যাচের ধকল সামলানোর যে আসল ধার, সেটা এখনো পুরোপুরি ফিরে পাইনি। আর সেটা প্রীতি ম্যাচ খেলে খেলেই আমাকে অর্জন করতে হবে।
কোরিয়ানদের মাঝমাঠে দুই পায়ে সমান পারদর্শী হাওয়াং ইন-বিওম একজন ক্লান্তিহীন 'বক্স-টু-বক্স' মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত। তিনি মাঠে না থাকলে দল যে কতটা খেই হারিয়ে ফেলে, তার প্রমাণ মিলেছে এ বছরের দুটি প্রীতি ম্যাচে। হাওয়াংয়ের অনুপস্থিতিতে কোরিয়া আইভরি কোস্টের কাছে ৪-০ এবং অস্ট্রিয়ার কাছে ১-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ফুটবল পণ্ডিতরা দাবি করেছিলেন, এই মিডফিল্ডারের অভাবই দলের পরাজয়ের মূল কারণ। 
তবে দলের চেয়ে ব্যক্তি বড় নয়, এমন বিনয়ী মানসিকতা দেখিয়ে হাওয়াং বলেন, আমি ছিলাম না বলেই যে দল খারাপ খেলেছে, তা আমি বিশ্বাস করি না। আমাদের দলে এমন অনেক ফুটবলার আছেন, যারা যেকোনো খেলোয়াড়ের বিকল্প হিসেবে মাঠে নেমে সেরাটা দিতে পারেন। সত্যি বলতে, সেদিন আমি মাঠে থাকলেও ম্যাচগুলো আমাদের জন্য সমান কঠিনই হতো।
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহাসিক রূপকথার অন্যতম নায়ক ছিলেন এই হাওয়াং। সেবার গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী পর্তুগালকে স্তব্ধ করে দিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছিল কোরিয়া, যদিও পরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কাছে হেরে তাদের বিদায় নিতে হয়। এবার দল সংখ্যা বেড়ে ৪৮-এ উন্নীত হওয়া মেগা বিশ্বকাপে 'তাইগুক ওয়ারিয়র্স' বা কোরিয়ানরা লড়বে গ্রুপ 'ই'-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ অন্যতম সহ-আয়োজক মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চেক প্রজাতন্ত্র।

বিশ্বকাপে দেশের মানুষকে আবারও আনন্দের জোয়ারে ভাসানোর স্বপ্ন নিয়ে হাওয়াং বলেন, "গত বিশ্বকাপের মতো এবারও যদি আমরা সবাই এক সুতোয় গাঁথা হয়ে মাঠে নামতে পারি, তবে দেশের কোটি কোটি মানুষকে আমরা আবারও বড় উপহার দিতে পারব। আমাদের দলে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। তবে সেই প্রতিভাকে কাজে লাগাতে হলে আমাদের ব্যক্তি স্বার্থ ভুলে দলের স্বার্থে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।
বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে আগামী শনিবার ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো এবং তার চার দিন পর এল সালভাদরের বিপক্ষে ইউটার মাঠেই দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে দক্ষিণ কোরিয়া। এরপর আগামী ১১ জুন গুয়াদালাহারায় চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে কোরিয়ানদের আসল বিশ্বকাপ মিশন।
