ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাঙালি ফুটবলপ্রেমীদের চিরন্তন ‘আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল’ দ্বৈরথ এবার এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। দিনকয়েক আগে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থকদের জমকালো উচ্ছ্বাসের মোক্ষম জবাব দিতে এবার রাজপথে নেমে এলেন ব্রাজিলের কট্টর সমর্থকরা।

শনিবার বিকেলে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারের রাজপথ ও সৈকত এলাকা মেতে উঠেছিল এক অভূতপূর্ব ব্রাজিলীয় উন্মাদনায়। ভুভুজেলার কানফাটানো আওয়াজ, মোটরবাইকের গর্জন আর হাজার হাজার ভক্তের গায়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী হলুদ-সবুজ জার্সিতে পুরো কক্সবাজার যেন রূপ নিয়েছিল এক টুকরো ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে!
এই আনন্দ শোভাযাত্রায় দেখা গেছে এক অনন্য ও আবেগঘন দৃশ্য। দুই পা ঠিকমতো সঙ্গ দেয় না, চলতে গেলে ভর করতে হয় হাতের লাঠির ওপর, তবুও ফুটবল আর ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসার টানে ঘরে বসে থাকতে পারেননি এক শারীরিক প্রতিবন্ধী সমর্থক।

উল্লাসের অতিশয্যে একপর্যায়ে ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও তাঁর হাতের প্রিয় সেলেসাওদের পতাকা কিন্তু এক চুলও নিচে নামেনি, সগৌরবে তা উঁচিয়ে ছিল আকাশের দিকে। যখন চারপাশে হাজারো সুস্থ-সবল সঙ্গী থাকে, তখন এমন আবেগ যে সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দেবে, তা বলাই বাহুল্য।

শনিবার দুপুরের তীব্র রোদ ও গরমকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টে হাজির হন শত শত আবেগাপ্লুত ব্রাজিল ভক্ত। কারোর হাতে ভুভুজেলা, কারোর গায়ে নেইমার-ভিনিসিউসদের জার্সি। বাবার কাঁধে চড়ে আসা ক্ষুদে সমর্থক থেকে শুরু করে প্রেমিকার চেয়ে নিজের প্রিয় দল ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখা প্রেমিক- সবাই শামিল হয়েছিলেন এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে।
বিকেলের দিকে সৈকত পাড়ের অলিগলি থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে বের হতে শুরু করে হলুদ ভক্তদের বিশাল মোটরবাইক বহর। লাবণী পয়েন্ট থেকে সুগন্ধা পয়েন্ট পর্যন্ত পুরো সৈকত এলাকা হলুদ আর সবুজের চাদরে ছেয়ে যায়। শোভাযাত্রা থেকে সমর্থকরা ভুভুজেলা বাজিয়ে এবং চিৎকার করে প্রিয় দলের পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন।

বিশ্বকাপের মূল আসর শুরু হওয়ার আগেই মাঠের বাইরের এই লড়াইয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে মরিয়া বাংলাদেশের ব্রাজিল ভক্তরা। কক্সবাজারের এই ‘সাম্বা কিংস’দের মনে একটাই দৃঢ় বিশ্বাস, বিগত কয়েক আসরের খরা কাটিয়ে এবার ফুটবল বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ (মিশন হেক্সা) জিতে এক নতুন ইতিহাস গড়বে ব্রাজিল।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার সমর্থকদের পাল্টা জবাব দিয়ে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে ব্রাজিলিয়ানদের এই গর্জন স্পষ্ট জানিয়ে দিল, মাঠে খেলা শুরুর আগেই গ্যালারির লড়াইয়ে তারা প্রতিপক্ষকে এক গোল দিয়ে রেখেছে!
