২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হতেই লাতিন আমেরিকার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ফুটবল উন্মাদনা এখন আকাশ ছুঁয়েছে। একদিকে মাঠের বল গড়ানোর সাথে সাথে পুরো ব্রাজিল মেতে উঠেছে তাদের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে এক নজিরবিহীন উন্মাদনায়।
অন্যদিকে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মাঠে নামছে ফুটবল ইতিহাসের দীর্ঘ ৬৪ বছরের এক ভয়ংকর ‘বিশ্বকাপ অভিশাপ’ ভাঙার মিশন নিয়ে। মাঠ এবং মাঠের বাইরে এই দুই চিরবৈরীর দ্বৈরথ ফুটবল দুনিয়ায় এক চরম পারদ চড়িয়ে দিয়েছে।

ব্রাজিলের রিও গ্রান্দে দো সুল প্রদেশের নোভো হামবুর্গো শহরের পাত্রিয়া নোভা এলাকায় রাতারাতি ঘটে গেছে এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড। বিশ্বকাপের আমেজ গায়ে মেখে নেইমারের প্রতি দেশের মানুষের অবিচল ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে তৈরি করা হয়েছে এক বিশাল ও চোখ ধাঁধানো দেয়াল ও সড়কচিত্র।
কোনো সাধারণ ক্যানভাসে নয়, আস্ত পিচঢালা রাস্তার ওপর প্রায় ২০০ মিটার (৬৫৬ ফুট) এলাকা জুড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই দানবীয় উন্মাদনা। এই বিশালাকার উন্মুক্ত স্ট্রিট আর্টটি তার সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং নেইমারের আইকনিক অবয়বের কারণে পুরো এলাকাকে একটি জীবন্ত ফুটবল উৎসবে রূপ দিয়েছে। বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে এটি এখন ব্রাজিলিয়ানদের কাছে ফুটবল, শিল্প আর আবেগ এক সুতোয় বেঁধে ফেলার এক রঙিন প্রতীক।

ব্রাজিলের সেই ঐতিহাসিক কীর্তি এবং মেসির ঘাড়ে ‘অভিশাপের’ ভূত!
ব্রাজিল যখন নেইমার-বন্দনায় ব্যস্ত, তখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে ভর করেছে এক অদ্ভুত পরিসংখ্যানের আতঙ্ক। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা এবারও ট্রফি জেতার সবচেয়ে বড় দাবিদার হলেও, ইতিহাসের এক নিষ্ঠুর নিয়তি কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, গত ছয় দশকে কোনো দলই টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়নি!
সর্বশেষ ১৯৬২ সালে পেলের ব্রাজিল ১৯৫৮ সালের পর টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি উঁচিয়ে ধরে এই অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছিল। এরপর থেকে গত ৬৪ বছর ধরে প্রতিবারই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা পরের বিশ্বকাপে এসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। মারাদোনা থেকে শুরু করে জিনেদিন জিদান, কোনো প্রজন্মের বিশ্বজয়ীরাই এই অভিশপ্ত বৃত্ত ভাঙতে পারেননি।

ইতিহাসের পাতায় অমর হওয়ার সুযোগ: অভিজ্ঞতায় ঠাসা স্কোয়াড, তুঙ্গে থাকা আত্মবিশ্বাস আর জয়ের চেনা ছন্দ নিয়ে লিওনেল মেসি এবার তাঁর ক্যারিয়ারের রেকর্ড ষষ্ঠ ও শেষ বিশ্বকাপে নামছেন। আর্জেন্টিনার সামনে এখন সুযোগ প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই দীর্ঘ বিশ্বকাপ অভিশাপ বা ‘কার্স’ ভেঙে ইতিহাসে অমর হয়ে যাওয়ার।
এখন দেখার বিষয়, ব্রাজিলের রাস্তায় নেইমারের এই চকমকে গ্রাফিতি সেলেসাওদের হেক্সা মিশন সফল করতে পারে, নাকি চিরশত্রু ব্রাজিলের সেই ৬৪ বছর আগের রেকর্ড ছুঁয়ে মেসিই শেষ হাসি হাসেন!
