যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ১৪ দফা শান্তি চুক্তিতে নাখোস ইসরাইল

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খসড়া নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে যুদ্ধবিরতি, অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে, চুক্তি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যের পাশাপাশি ইসরাইলি মহলেও দেখা দিয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।

কয়েক মাসের সংঘাত, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতার খসড়া সামনে এসেছে। ১৪ দফার এই প্রস্তাবে সব যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। এর আওতায় আছে লেবানন ফ্রন্টও।

খসড়া অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকার করবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ধাপে ধাপে সামরিক উত্তেজনা কমানোর বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নেতৃত্বের দাবি, সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকিই তেহরানকে আলোচনার টেবিলে এনেছে।

খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হবে, ইরানের জ্বালানি আয়ে পূর্ণ প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন সহায়তার পরিকল্পনা করা হবে।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, প্রস্তাবিত সমঝোতা নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে পারবে না। তিনি বলেন, আগের পরমাণু চুক্তির মতো শুধু কাগুজে প্রতিশ্রুতি নয়, এবার যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্য সামরিক শক্তির চাপই তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে বাধ্য করেছে।

হেগসেথের ভাষায়, ইরানি শাসনব্যবস্থা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পুরো সময়জুড়েই হরমুজের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ছিলো এবং সেই চাপের কারণেই প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেবার আলোচনা সম্ভব হয়েছে। তবে অবরোধ প্রত্যাহার ও ইরানের তেল রপ্তানি পুনরায় শুরুর বিষয়ে তিনি জানান, এটি প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত কার্যকর হয়েছে, যদিও এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে ইরানের পদক্ষেপের ওপর।

এর মধ্যেই ৪৮ ঘণ্টা পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রথমবারের মতো একটি ভারতীয় তেলবাহী জাহাজ চলাচল করেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ইরানের সরকার বিরোধীরা বলছে, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি এবং ভবিষ্যতে দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান সরকার বলছে, চুক্তির পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ ৬০ দিনের আলোচনায় অংশ নেয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধ, অবরোধ প্রত্যাহার এবং জব্দ করা সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে। তবে চুক্তি নিয়ে সন্তুষ্ট নয় ইসরাইল। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তি বাস্তবায়িত হলে এটাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনাগুলোর একটি। তবে বাস্তবায়নের আগে সামনে আছে বহু জটিলতা, অবিশ্বাস এবং রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশ। এই সমঝোতা সফল হলে তা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কই নয়, বরং হরমুজ প্রণালি, জ্বালানির বাজার এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করবে। আর তা না হলে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুরু হবে আবারো।

এআরএস
ইরানের কেশম দ্বীপে চলমান মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি আহমেদ আল-জাবেরে বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে ইরান।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক আগ্রাসনের প্রকৃত ব্যয় পেন্টাগনের ঘোষিত হিসাবের প্রায় চার গুণ বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ।
কেশম দ্বীপে এই রক্তক্ষয়ী মার্কিন হামলার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে ইরান। এর পাল্টা জবাবে জর্ডানের পূর্বাঞ্চলীয় মরুভূমিতে অবস্থিত ‘আল-আজরাক’ বিমান ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়...
সাময়িক বিরতি কাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বারুদ আবার দাউদাউ করে জ্বলে উঠল! মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইরানের ওপর এক ঘণ্টার এক বিধ্বংসী ‘ভারী বিমান হামলা’ শেষ...
ছুটির দিনে রাজধানীর উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) বিভিন্ন সড়ক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 
ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে বিভক্ত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে (আইইউটি) শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি উৎসব ‘অটোমেক টু পয়েন্ট জিরো’।
ইরানের কেশম দ্বীপে চলমান মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি আহমেদ আল-জাবেরে বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে ইরান।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর